জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরিপাক কী?
- খ)(2)
দন্ত সংকেত বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
'A' একটি মিশ্র গ্রন্থি- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'A' নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদান নির্দিষ্ট এনজাইম ও হরমোনের সহায়তায় ভেঙে সরল, দ্রবণীয় ও দেহকোষের শোষণোপযোগী উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংকেতের সাহায্যে স্তন্যপায়ী প্রাণীর মুখগহ্বরের প্রতি চোয়ালের অর্ধেক অংশের বিভিন্ন প্রকার দাঁতের সংখ্যা ও বিন্যাস সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশ করা হয়, তাকে দন্ত সংকেত (Dental Formula) বলে।
মানুষের মোট চার ধরনের দাঁত থাকে: কর্তন (Incisor - I), ছেদন (Canine - C), অগ্রপেষণ (Premolar - PM) এবং পেষণ (Molar - M)। পূর্ণাঙ্গ মানুষের দন্ত সংকেত হলো: I(2/2) C(1/1) PM(2/2) M(3/3) × 2 = ৩২। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'A' অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয়।
যেসব গ্রন্থি একই সাথে বহিঃক্ষরা (অনাল নয়, বরং নালীযুক্ত) এবং অন্তঃক্ষরা (অনাল গ্রন্থি) উভয় হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এনজাইম ও হরমোন উভয়ই ক্ষরণ করে, তাদের মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি, কারণ:
১. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে ভূমিকা: অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসিনাস বা ক্ষরণকারী কোষগুলো অগ্ন্যাশয় নালীর (Wirsung duct) মাধ্যমে অগ্ন্যাশয় রস (Pancreatic juice) সরাসরি ডিওডেনামে ক্ষরণ করে। এই রসে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, লাইপেজ ইত্যাদি পরিপাককারী এনজাইম থাকে।
২. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে ভূমিকা: অগ্ন্যাশয়ে অবস্থিত আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামক কোষগুচ্ছ অনাল গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। এর আলফা কোষ থেকে গ্লুকাগন, বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন, ডেল্টা কোষ থেকে সোমাটোস্ট্যাটিন এবং পিপি কোষ থেকে প্যানক্রিয়াটিক পলিপেপটাইড হরমোন ক্ষরিত হয়ে সরাসরি রক্তে মিশে যায়।
অতএব, নালীযুক্ত ও অনাল উভয় প্রকৃতির গঠন ও কাজের উপস্থিতির কারণে অগ্ন্যাশয় ('A') একটি মিশ্র গ্রন্থি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' অঙ্গটি হলো অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত অগ্ন্যাশয় রসে শর্করা, আমিষ এবং স্নেহ—এই তিন প্রধান ধরনের জটিল খাদ্য উপাদান পরিপাকের জন্যই এনজাইম উপস্থিত থাকে। নিচে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শর্করা পরিপাককারী এনজাইম:
- অ্যামাইলেজ (Amylase): অগ্ন্যাশয়িক অ্যামাইলেজ অবশিষ্ট সিদ্ধ বা অসিদ্ধ শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেনকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে মল্টোজে পরিণত করে।
- মল্টেজ (Maltase): এটি মল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে।
২. আমিষ পরিপাককারী এনজাইম:
- ট্রিপসিন (Trypsin): নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন এন্টারোকাইনেজের সহায়তায় ট্রিপসিনে পরিণত হয় এবং প্রোটিওজ ও পেপটোনকে ভেঙে পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
- কাইমোট্রিপসিন (Chymotrypsin): এটি প্রোটিন ও পেপটাইডকে ভেঙে ক্ষুদ্র পেপটাইডে রূপান্তর করে।
- কার্বক্সিপেপটাইডেজ: পেপটাইডের প্রান্তীয় অ্যামিনো অ্যাসিডকে মুক্ত করে সরল অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপন্ন করে।
৩. স্নেহ বা লিপিড পরিপাককারী এনজাইম:
- লাইপেজ (Lipase): পিত্তলবণ দ্বারা ইমালসিফাইড ফ্যাটকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।
- ফসফোলাইপেজ ও কোলেস্টেরল এস্টারেজ: এগুলো যথাক্রমে ফসফোলিপিড ও কোলেস্টেরল এস্টারকে ভেঙে শোষণোপযোগী করে।
যেহেতু অগ্ন্যাশয় রসে শর্করা, প্রোটিন এবং লিপিড—সব ধরনের জটিল খাদ্য পরিপাকের উপযুক্ত এনজাইম সমৃদ্ধ একটি সমন্বিত পরিপাককারী তরল ক্ষরিত হয়, তাই বলা যায় 'A' (অগ্ন্যাশয়) নিঃসৃত এনজাইম সব ধরনের খাবার পরিপাকে সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও