পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
নেতৃত্ব কী?
- খ)(2)
উদারতাকে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত স্থানটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
গণতন্ত্রকে সাফল্যমণ্ডিত করতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংগঠনটির গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দল বা গোষ্ঠীর লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে তাদের আচরণ ও কাজকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করার প্রক্রিয়া বা গুণকে নেতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নেতার দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হলে তিনি সকল মত ও পথের মানুষকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে পারেন না, তাই উদারতাকে নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলা হয়।
একজন উদার মানসিকতার নেতা অন্যের মতামত ও গঠনমূলক সমালোচনাকে সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করতে পারেন। এতে অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়। সংকীর্ণ মানসিকতা নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে ধ্বংস করে, পক্ষান্তরে উদার মনোভাব নেতার সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে এবং দলের সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানটি পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্যবইয়ের 'রাজনৈতিক দল' (Political Party) ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক দল হলো একটি সুসংগঠিত জনগোষ্ঠী, যা কতকগুলো সাধারণ নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থরক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা চালায়। এডমন্ড বার্কের মতে, "রাজনৈতিক দল এমন এক সংগঠিত গোষ্ঠী, যা কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়।"
উদ্দীপকের ছকে রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে; যথা— এটি একটি 'সংগঠিত জনগোষ্ঠী', এর সদস্যরা 'সম আদর্শে বিশ্বাসী', এটি 'নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন' প্রদান করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে 'রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ' করে। এই চারটি বৈশিষ্ট্যই মূলত রাজনৈতিক দলের মূল স্তম্ভ। সুতরাং, উদ্দীপকের চিহ্নিত স্থানটিতে 'রাজনৈতিক দল' ধারণার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি হলো রাজনৈতিক দল; তাই গণতন্ত্রকে সাফল্যমণ্ডিত করতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংগঠনটির (রাজনৈতিক দলের) ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।
গণতন্ত্রকে সফল ও কার্যকর করতে রাজনৈতিক দল নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. জনমত গঠন ও প্রকাশ: রাজনৈতিক দল বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে এবং প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনমতকে সুসংগঠিত ও প্রকাশ করে।
২. নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরকার গঠন: রাজনৈতিক দল যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে রাষ্ট্রের নীতি ও কার্যক্রম পরিচালনা করে।
৩. গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা: নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। তারা সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
৪. রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি: নির্বাচনের মাধ্যমে ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল সাধারণ জনগণের মধ্যে অধিকার, দায়িত্ব ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
৫. সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন: রাজনৈতিক দল জনগণের দাবি-দাওয়া ও অভাব-অভিযোগ সরকারের নিকট উপস্থাপন করে এবং সরকারের নীতি-পরিকল্পনা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করে উভয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক দল ব্যতীত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা অচল। রাজনৈতিক দলের কার্যকর উপস্থিতি ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমেই গণতন্ত্র অর্থবহ ও সফল হয়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও