গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সাবিনা বেগম সোনারগাঁয়ে বেড়াতে গিয়ে শাড়ি কিনলেন। কথিত আছে, ইরানি বাদশাহর পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় এই ধরনের শাড়ির বুনন শুরু হয়। শাড়িটি তৈরিতে দু'জন কারিগর প্রয়োজন হয় যা বুটা, নকশার তৈরি। অন্যদিকে দিলারা বেগম গুটি পোকার লালা থেকে তৈরি তন্তুর সুতা দিয়ে বোনা কাপড় ক্রয় করেন।
- ক)(1)
বেইন কাকে বলে?
- খ)(2)
খদ্দর কাপড় স্বদেশি আন্দোলনের সাথে জড়িত—বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাবিনার কেনা শাড়িটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দিলারা বেগমের ক্রয়কৃত শাড়িটির উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সচেতনতা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মণিপুরি সম্প্রদায়ের মহিলারা কোমরতাঁতে নিজেদের ব্যবহারের জন্য যে ঐতিহ্যবাহী কাপড় বোনেন, তাকে স্থানীয় ভাষায় বেইন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বিদেশি বস্ত্র বর্জন ও দেশীয় পণ্যের প্রসারের লক্ষ্যে 'স্বদেশি আন্দোলন' শুরু হয়। মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে দেশের মানুষ চরকায় সুতা কেটে তাঁতের মাধ্যমে মোটা খদ্দর বা খাদি কাপড় তৈরি ও ব্যবহার শুরু করে। খদ্দর কাপড় ছিল আত্মনির্ভরশীলতা ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাই খদ্দর কাপড় স্বদেশি আন্দোলনের সাথে গভীরভাবে জড়িত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাবিনার কেনা শাড়িটি হলো ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি।
জামদানি শাড়ির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ হস্তচালিত তাঁতে বোনা হয় এবং এতে কোনো আলাদা সুঁই ব্যবহার না করে সূক্ষ্ম বাঁশের বা তেঁতুল কাঠের কাঠি দিয়ে নকশা তোলা হয়। সাধারণত দুইজন দক্ষ কারিগর পাশাপাশি বসে দীর্ঘ সময় নিয়ে শাড়ির জমিনে নিখুঁত বুটা ও বিভিন্ন জ্যামিতিক ও লতাপাতার নকশা ফুটিয়ে তোলেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোনারগাঁয়ে প্রাপ্তি, ইরানি বাদশাহর পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বুনন শুরু এবং দুইজন কারিগর মিলে বুটা-নকশা তৈরি করার বিষয়টি সরাসরি জামদানি শাড়ির ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। এ শাড়ি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, হালকা, আকর্ষণীয় এবং বাঙালির বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের রূপ বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে দিলারা বেগমের ক্রয়কৃত রেশম (সিল্ক) শাড়ির শিল্পটির উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে গুটি পোকার (পলু পোকা) লালা থেকে তৈরি তন্তুর সুতা দিয়ে বোনা কাপড়টি হলো ঐতিহ্যবাহী রেশম বা সিল্কের কাপড়। বাংলাদেশের রাজশাহীর রেশম শিল্প বিশ্বে সমাদৃত একটি ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প।
বর্তমানে উপযুক্ত কাঁচামালের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির সংকট, সুতার চড়া মূল্য, কারিগরদের মজুরি বৈষম্য এবং সস্তা কৃত্রিম তন্তুর আগ্রাসনে ঐতিহ্যবাহী এই রেশম শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এই শিল্পের পুনরুজ্জীবনে সরকারি পর্যায়ে উন্নত তুঁত চাষের জমি বরাদ্দ, সহজ শর্তে ঋণদান, আধুনিক রিলিং মেশিন সরবরাহ এবং রেশম বোর্ডকে আরও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ক্রেতাসাধারণের মাঝে প্রাকৃতিক দেশীয় রেশমের গুরুত্ব ও গুণগত মান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বাড়বে।
অতএব, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা, কারিগরদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং রেশম শিল্পের বাজার সম্প্রসারণে সরকারি কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা ও সামাজিক সচেতনতা একান্ত অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও