সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

সহপাঠ প্রশ্ন

রোমের একচ্ছত্র অধিপতি জুলিয়াস সিজার। তাঁর সিনেটররা ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেননি। তারা সিজারকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুটাসও এই হীন চক্রান্তে যোগ দেন। সিনেটে নৃশংসভাবে নিহত হন সিজার। মৃত্যুকালে বন্ধু ব্রুটাসের হাতেও উদ্যত ছুরি দেখে বিস্মিত সিজার বলে ওঠেন, ‘ব্রুটাস, তুমিও!’

  1. ক)

    ওয়াটসনের সই জাল করে দিয়েছে কে?

    (1)
  2. খ)

    “বাট আই অ্যাম সিউর নবাব ক্যান কজ নো হার্ম টু আস।” উক্তিটি কেন করা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জুলিয়াস সিজার ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সাথেতুলনীয়? বুঝিয়ে দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “ব্রুটাসেরা কেবল রোমেই নয়, এ বাংলাতেও বিচরণ করেছে।” উদ্দীপক ও‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে উক্তিটির মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওয়াটসনের সই জাল করে দিয়েছিল লর্ড ক্লাইভ (বা রবার্ট ক্লাইভ/লুশিংটন ক্লাইভের নির্দেশে)। তবে পাঠ্যবই অনুযায়ী রবার্ট ক্লাইভ ওয়াটসনের সই জাল করেছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না—এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করতেই রবার্ট ক্লাইভ এ উক্তিটি করেছিলেন।

    নবাব আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে ইংরেজরা তাঁকে দুর্বল মনে করে। এছাড়া নবাবের দরবারে মীরজাফর, ঘসেটি বেগমসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইংরেজদের সঙ্গে চক্রান্তে লিপ্ত হতে দেখে ক্লাইভ নিশ্চিত হয়েছিলেন যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত নবাব ইংরেজদের কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম হবেন না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জুলিয়াস সিজার ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা চরিত্রের সাথে তুলনীয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রোমের একচ্ছত্র অধিপতি জুলিয়াস সিজারের বিরুদ্ধে তাঁর সিনেটররা ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুটাস ষড়যন্ত্র করে এবং সিনেটের ভেতরে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সিজার তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুর এমন বিশ্বাসঘাতকতা দেখে চরম ব্যথিত হন।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন ও একনিষ্ঠ শাসক। কিন্তু তাঁরই দরবারের সভাসদ, আত্মীয় এবং প্রধান সেনাপতি মীরজাফর নবাবের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। নবাব মীরজাফরকে বারবার বিশ্বাস করে ক্ষমা করেছেন এবং কোরআন ছুঁয়ে শপথ করিয়েছেন; অথচ যুদ্ধক্ষেত্রে সেই মীরজাফরই নিস্পৃহ দাঁড়িয়ে থেকে নবাবের পরাজয় ও চূড়ান্ত পতন ডেকে আনে। নিজের কাছের মানুষদের চক্রান্তের শিকার হয়ে করুণ পরিণতি বরণের দিক থেকে উদ্দীপকের সিজার নাটকটির সিরাজউদ্দৌলার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ব্রুটাসেরা কেবল রোমেই নয়, এ বাংলাতেও বিচরণ করেছে।”—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে ব্রুটাস ছিলেন জুলিয়াস সিজারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পরম বিশ্বস্ত বন্ধু। কিন্তু সেই ব্রুটাসই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ ও ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়ে সিজারের বুকে ছুরি চালাতে দ্বিধা করেনি। বন্ধুত্বের আবরণে ব্রুটাস মূলত বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে আমরা এই ব্রুটাসেরই একাধিক প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই বাংলার মাটিতে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, বড় খালা ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ ছিলেন নবাবের নিজ দরবারের মানুষ। বিশেষ করে মীরজাফর নবাবের পরম বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। নবাব তাঁর ওপর বারংবার আস্থা রেখেছেন। কিন্তু মীরজাফর নিজ স্বার্থ ও মসনদের লোভে বিদেশি ইংরেজ বণিকদের সাথে হাত মিলিয়ে পলাশীর প্রান্তরে দেশের স্বাধীনতা বিসর্জন দেন এবং নবাবের পতন ঘটান।

    সিজারের জীবনে যেমন বন্ধুবেশী ঘাতক হিসেবে ব্রুটাসের আবির্ভাব ঘটেছিল, তেমনি সিরাজউদ্দৌলার জীবনেও সেনাপতিবেশী ঘাতক ও চক্রান্তকারী হিসেবে মীরজাফরদের মতো 'দেশীয় ব্রুটাস'দের বিচরণ ছিল। তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই বাংলা প্রায় দুইশত বছরের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল। সুতরাং, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন