ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মুগ্ধ ও জনাব স্নিগ্ধ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.এ সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে হিসাব ও অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজে যোগ দেন। তারা প্রথমেই আগামী ছয় মাসে তাদের করণীয় ঠিক করেন। অধীনস্থ কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করেন এবং কে, কোন কাজ, কখন সম্পন্ন করবেন, সে সম্পর্কে উপদেশ দেন। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীরা কোনো, সমস্যার সম্মুখীন হলে তা তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করেন। ছয় মাস পর দেখা যায় তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে । তাই তারা কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন ।
- ক)(1)
লক্ষ্য কী?
- খ)(2)
পদোন্নতি কেন দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামোর ধরন ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জনাব মুগ্ধ ও জনাব স্নিগ্ধ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ সঠিকভাবে করেছেন'— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পনার অভিপ্রেত বা প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ ফলাফলকে লক্ষ্য (Goal/Objective) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান, মনোবল বৃদ্ধি এবং অধিকতর দায়িত্বশীল পদে উপযুক্ত কর্মী কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
কোনো কর্মীকে তার বর্তমান পদ থেকে উচ্চতর পদে উন্নীত করাকে পদোন্নতি বলে। এর ফলে কর্মীর পদমর্যাদা, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়। কর্মীদের কাজের প্রতি সন্তুষ্টি ও আনুগত্য বৃদ্ধি করা, তাদের মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্যই মূলত পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামোটি মূলত 'কার্যভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো' (Functional Organizational Structure)।
প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রধান প্রধান বিভাগে (যেমন: উৎপাদন, বিপণন, অর্থ, হিসাব ইত্যাদি) ভাগ করে এবং প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব একজন বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থাপকের ওপর অর্পণ করে যে সংগঠন কাঠামো গড়ে তোলা হয়, তাকে কার্যভিত্তিক সংগঠন বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, এম.বি.এ সম্পন্ন জনাব মুগ্ধ ও জনাব স্নিগ্ধ একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে 'হিসাব' ও 'অর্থ' বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেছেন। এখানে প্রতিষ্ঠানের মূল কাজগুলোকে বিশেষায়িত কার্য অনুযায়ী ভাগ করে পৃথক বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সুতরাং প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামোর ধরন হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে 'জনাব মুগ্ধ ও জনাব স্নিগ্ধ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ সঠিকভাবে করেছেন'—এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণের একটি ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। একটি প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এসব কাজের সুষ্ঠু ধারাবাহিক প্রয়োগ অপরিহার্য।
উদ্দীপক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:
১. পরিকল্পনা: তাঁরা শুরুতেই আগামী ছয় মাসে তাঁদের করণীয় ঠিক করেছেন, যা ভবিষ্যৎ কাজের পূর্বনির্ধারিত নকশা বা পরিকল্পনা।
২. সংগঠন ও কর্মীসংস্থান: অধীনস্থ কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন করেছেন, যা সংগঠন ও কর্মী নিয়োগের প্রতিফলন।
৩. নির্দেশনা ও নেতৃত্ব: কে, কোন কাজ, কখন করবেন সে বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশনা দিয়েছেন।
৪. যোগাযোগ ও সমন্বয়: সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীদের কাজের তদারকি ও সমন্বয় করেছেন।
৫. সমস্যা সমাধান ও নিয়ন্ত্রণ: কর্মীদের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করেছেন এবং ছয় মাস পর অর্জিত ফলাফলের মূল্যায়ন করেছেন।
৬. প্রেষণা: কর্মীদের লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় কাজের প্রশংসা করে তাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।যেহেতু তাঁরা ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপ কার্যকরভাবে পরিচালনা করে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, তাই বলা যায় তাঁরা ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ অত্যন্ত সুচারু ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও