জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ভেনাস হার্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    মাছের পটকাকে হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণিটির রেচন পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রাণীটি আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে দর্শন কৌশলের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (ডি-অক্সিজেনযুক্ত) রক্ত পরিবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃদপিণ্ড বলে (যেমন: মাছের হৃদপিণ্ড)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছের পটকা বা বায়ুথলি গ্যাস পূর্ণ বা খালি করার মাধ্যমে মাছের দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। পটকা গ্যাসের পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাছকে পানির বিভিন্ন গভীরতায় স্থিতিশীল থাকতে, উপরে ভাসতে কিংবা নিচে নামতে সাহায্য করে। অর্থাৎ এটি প্লবতা রক্ষা করে হাইড্রোস্ট্যাটিক ভারসাম্য বজায় রাখে, তাই মাছের পটকাকে হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)।

    রেচন পদ্ধতি:
    ১. হিমোলিম্ফ থেকে বর্জ্য শোষণ: ম্যালপিজিয়ান নালিকাগুলোর বদ্ধ প্রান্ত হিমোলিম্ফে নিমজ্জিত থাকে। এগুলো হিমোলিম্ফ থেকে অভিস্রবণ ও সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় পানি, লবণ এবং দ্রবীভূত পটাশিয়াম ইউরেট বর্জ্য শোষণ করে নেয়।
    ২. রাসায়নিক রূপান্তর: নালিকার অভ্যন্তরে পটাশিয়াম ইউরেট পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট এবং অদ্রবণীয় ইউরিক এসিডে রূপান্তরিত হয়।
    ৩. পুনঃশোষণ: পটাশিয়াম বাইকার্বোনেট ও প্রয়োজনীয় পানি পুনরায় নালিকার প্রাচীর দিয়ে রক্তে শোষিত হয়ে ফিরে আসে।
    ৪. বর্জ্য নিষ্কাশন: কঠিন বা অর্ধকঠিন ইউরিক এসিড নালিকার মুক্ত প্রান্ত দিয়ে ঘাসফড়িংয়ের পৌষ্টিক নালীর পশ্চাৎভাগে (হিন্দগাট) প্রবেশ করে এবং মলের সাথে মলদ্বার দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রাণীটি ঘাসফড়িং, যার দৃষ্টি অঙ্গ হলো একজোড়া জটিল চোখ বা পুঞ্জাক্ষি। পুঞ্জাক্ষির গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো ওমাটিডিয়াম। আলোর তীব্রতার তারতম্যের উপর ভিত্তি করে ঘাসফড়িংয়ের ওমাটিডিয়ামে দুই ধরনের দর্শন কৌশল বা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়:

    ১. উজ্জ্বল বা তীব্র আলোতে (অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব):
    উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ রঞ্জক আবরণী এবং রেটিনাল রঞ্জক আবরণী প্রসারিত হয়ে ক্রিস্টালাইন কোণ ও র‍্যাবডমকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে। এর ফলে একটি ওমাটিডিয়ামে কেবল উল্লম্বভাবে আপতিত আলোকরশ্মিই র‍্যাবডমে পৌঁছাতে পারে; তীর্যকভাবে আপতিত আলো পাশের ওমাটিডিয়ামে যেতে না পেরে রঞ্জক কণা দ্বারা শোষিত হয়। এতে প্রতিটি ওমাটিডিয়াম বস্তুর কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশের আলাদা প্রতিবিম্ব তৈরি করে। সব ওমাটিডিয়ামের খণ্ড খণ্ড প্রতিবিম্ব একত্রিত হয়ে বস্তুর একটি সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

    ২. স্তিমিত বা মৃদু আলোতে (সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব):
    মৃদু আলোতে রঞ্জক আবরণী সংকুচিত হয়ে ভিত্তিপর্দার দিকে এবং কর্নিয়ার দিকে সরে যায়। ফলে ক্রিস্টালাইন কোণ ও র‍্যাবডম অনাবৃত হয়ে পড়ে। এর ফলে উল্লম্ব রশ্মির পাশাপাশি তীর্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মিও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়ামের র‍্যাবডমে পৌঁছাতে পারে। ফলে একাধিক ওমাটিডিয়ামের আলো একে অপরের ওপর উপরিপাতিত (overlap) হয়ে একটি ঝাপসা বা অস্পষ্ট কিন্তু সামগ্রিক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

    সুতরাং দেখা যায় যে, আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে ভিন্ন দর্শন কৌশল ও ভিন্ন প্রকৃতির প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন