যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

চীনের হুয়ান শহরে এক নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। •প্রতিদিন নতুন নতুন লোক আক্রান্ত হচ্ছেন। চীনের হুয়ান শহর থেকে এই ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ মনে করেন মানুষের আচরণে দেবতারা অসন্তুষ্ট হয়ে এ শাস্তি প্রদান করেছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যায় করোনা নামক ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে।

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মিশ্রকার্য হলো পৃথক কারণের একত্রিত ফল- বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মহামারীর কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে বক্তব্য ফুটে উঠেছে তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সাধারণ মানুষের ধারণার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার যে পার্থক্য দেখা যায়- তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দুর্বোধ্য, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাকে ব্যাখ্যা (Explanation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যায় মিশ্রকার্য হলো এমন একটি কার্য, যা একাধিক পৃথক কারণ বা শর্তের যৌথ ক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়।

    প্রকৃতিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক কারণ একসঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়ে একটি সামগ্রিক ফল বা কার্য উৎপন্ন করে। এই কার্যটি পৃথক পৃথক কারণগুলোর একক কার্যের সমষ্টি বা সংমিশ্রণ হতে পারে (যেমন: যান্ত্রিক মিশ্রকার্য) অথবা সম্পূর্ণ নতুন গুণের অধিকারী হতে পারে (যেমন: রাসায়নিক মিশ্রকার্য)। তাই বলা হয়, মিশ্রকার্য হলো পৃথক কারণের একত্রিত ফল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মহামারীর কারণ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যে বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে, তা হলো যুক্তিবিদ্যার 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'।

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. প্রাকৃতিক নিয়মভিত্তিক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কোনো অলৌকিক শক্তি বা দেবতার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি প্রাকৃতিক নিয়মাবলি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
    ২. পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণযোগ্য: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় উপস্থাপিত কারণ বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। উদ্দীপকে বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে শনাক্ত করেছেন।
    ৩. সর্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত বা কাল্পনিক বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয় না; এটি স্থান, কাল ও পাত্রভেদে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুসংগত।
    ৪. প্রকল্পের ব্যবহার: এটি বাস্তব ঘটনা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যুক্তিগ্রাহ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও তার প্রমাণের মাধ্যমে সঠিক কারণে উপনীত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ধারণা হলো 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং গবেষকদের ধারণা হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা'। এ দুইয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভিত্তির পার্থক্য: সাধারণ মানুষের ধারণা অলৌকিক বিশ্বাস, কুসংস্কার ও কাল্পনিক দেব-দেবীর অসন্তুষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রাকৃতিক কার্যকারণ নিয়ম ও বাস্তব তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    ২. পর্যবেক্ষণযোগ্যতা: লৌকিক ব্যাখ্যার কোনো বাস্তবিক প্রমাণ বা পর্যবেক্ষণ থাকে না; এটি কেবল অন্ধবিশ্বাসের ফল। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, অনুবীক্ষণ ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করে।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা: সাধারণ মানুষের দেবতাদের শাস্তি সংক্রান্ত ধারণা কোনোভাবেই প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞানীদের চিহ্নিত করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব ও তার সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি পরীক্ষামূলকভাবে যাচাইযোগ্য।

    ৪. ব্যক্তিনিষ্ঠ বনাম বস্তুনিষ্ঠ: লৌকিক ব্যাখ্যা মূলত ব্যক্তিনিষ্ঠ ও আবেগপ্রসূত, যা মানুষের ভয় ও অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলো নৈর্ব্যক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ।

    সুতরাং, উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ধারণায় লৌকিক ব্যাখ্যার ত্রুটি ও কুসংস্কার ফুটে উঠেছে, যার বিপরীতে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কার্যকারণভিত্তিক সত্য ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন