পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক লাস্কি বলেছেন, "সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা ব্যতীত অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে না।"
- ক)(1)
আইন কাকে বলে?
- খ)(2)
আইনের তিনটি উৎস বর্ণনা করো।
- গ)(3)
স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সংরক্ষণের জন্য স্বাধীনতার রক্ষাকবজগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এবং কার্যকর নিয়ম-কানুন বা বিধিনিষেধের সমষ্টিকে আইন বলে। অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হলো বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কিছু সাধারণ নিয়ম, যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রয়োগ করা হয়।"
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের প্রধান তিনটি উৎস নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রথা: প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাস যখন দীর্ঘকাল ধরে মান্য হয়ে সর্বজনীন স্বীকৃতি পায়, তখন তা প্রথায় পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে আইনে রূপ নেয়।
২. ধর্ম: প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মীয় অনুশাসনই সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করত। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারিবারিক আইন (যেমন- বিবাহ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) প্রধানত ধর্ম থেকেই এসেছে।
৩. আইনসভা: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের প্রধান উৎস হলো আইনসভা বা জাতীয় সংসদ। জনমতের ভিত্তিতে আইনসভায় নতুন আইন তৈরি এবং পুরোনো আইনের সংশোধন করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন ও স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক ও সহায়ক। আইন স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে না, বরং স্বাধীনতার পরিধি নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করে। জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
আইন সমাজের সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে এবং একের দ্বারা অন্যের স্বাধীনতায় অযাচিত হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করে। আইনহীন সমাজে সবলের অত্যাচার ও দুর্বলের অসহায়ত্ব তৈরি হয়, যার ফলে প্রকৃত স্বাধীনতা হারিয়ে যায়। আইন মানুষের অধিকারের সুরক্ষা দেয় এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ নিশ্চিত করে। সুতরাং, আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, বরং আইনের উপস্থিতিতেই স্বাধীনতা কার্যকর হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক লাস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বা রক্ষাকবচ ছাড়া নাগরিকগণ নির্বিঘ্নে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। স্বাধীনতার প্রধান রক্ষাকবজগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইন: আইনই স্বাধীনতার মূল রক্ষক। আইন ব্যক্তির অধিকার ও স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেয় এবং অন্যের হস্তক্ষেপ রোধ করে।
২. আইনের শাসন: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পায় এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়। ডাইসির মতে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং বিনা বিচারে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
৩. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ: সরকারের তিনটি অঙ্গ (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) যদি আলাদাভাবে ও স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে ব্যক্তি-স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে। মন্টেস্কুর মতে, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ স্বাধীনতার প্রধান শর্ত।
৪. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ শাসকগোষ্ঠী বা আইনসভার বেআইনি পদক্ষেপ থেকে নাগরিকের স্বাধীনতা রক্ষা করে।
৫. সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ: সংবিধানে মৌলিক অধিকার সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকলে সরকার সহজে তা লঙ্ঘন করতে পারে না।
৬. সদা জাগ্রত জনমত: অধ্যাপক লাস্কির মতে, চিরন্তন সজাগতাই স্বাধীনতার মূল্য। জনগণ সচেতন থাকলে সরকার স্বৈরাচারী হতে পারে না।অতএব, উপযুক্ত রক্ষাকবচসমূহের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত ও উপভোগ্য হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও