‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা • রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    তথ্য অধিকার আইন পাস করে সর্বপ্রথম কোন দেশ?

    (1)
  2. খ)

    মানবাধিকার বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    ১নং এর'?' চিহ্নিত স্থানে কোন অধিকার হবে? নৈতিক অধিকারের সাথে নির্ণেয় অধিকারের কোনো পার্থক্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লেখিত অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিক কী কী দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে পারবে বলে তুমি মনে করো? বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বপ্রথম সুইডেন ১৭৬৬ সালে তথ্য অধিকার আইন (Freedom of the Press Act) পাস করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য সেই সব অধিকার, যা একজন মানুষের সুস্থ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

    জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা বা জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ জন্মসূত্রে যে সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা লাভের অধিকারী, তা-ই মানবাধিকার। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র' গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে এটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ১নং এর '?' চিহ্নিত স্থানে 'আইনগত অধিকার' হবে। হ্যাঁ, নৈতিক অধিকারের সাথে আইনগত অধিকারের সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

    পার্থক্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. উৎসগত পার্থক্য: নৈতিক অধিকার মানুষের নীতিবোধ, বিবেক ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উদ্ভূত হয়। অপরদিকে, আইনগত অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন দ্বারা স্বীকৃত ও কার্যকর হয়।
    ২. প্রয়োগ ও বাধ্যবাধকতা: আইনগত অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎযোগ্য এবং কেউ তা লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান থাকে। পক্ষান্তরে, নৈতিক অধিকার ভঙ্গ করলে আদালত কর্তৃক কোনো আইনগত শাস্তি দেওয়া যায় না, কেবল সামাজিক নিন্দা বা বিবেকগত অনুশোচনা ঘটে।
    ৩. পরিবর্তনশীলতা ও স্পষ্টতা: আইনগত অধিকার সুস্পষ্ট, লিখিত ও নির্দিষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। নৈতিক অধিকার অলিখিত এবং এটি মূলত সর্বজনীন ও নৈতিক চেতনার ওপর নির্ভরশীল।

    সুতরাং, নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকারের মধ্যে প্রকৃতি ও প্রয়োগের দিক থেকে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক। উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনগত অধিকার (রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার) ভোগের মাধ্যমে নাগরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে পারে।

    নাগরিকের পালনযোগ্য দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ: সামাজিক ও আইনগত অধিকার ভোগ করে নাগরিক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রাষ্ট্রের প্রতি অকৃত্রিম আনুগত্য প্রকাশ করতে শেখে।
    ২. আইন মান্য করা: রাষ্ট্রে নিজের জীবন, সম্পত্তি ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হলে নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা ও তা মান্য করা।
    ৩. সততা ও যোগ্যতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ: রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমে একজন সচেতন নাগরিক উপযুক্ত ও সৎ প্রার্থী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় করে।
    ৪. নিয়মিত কর প্রদান: অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার বিনিময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারকে নিয়মিত ও সততার সাথে ট্যাক্স বা কর প্রদান করা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক কর্তব্য।
    ৫. সন্তানদের সুশিক্ষিত করা: সামাজিক অধিকার নিশ্চিত হওয়ার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সন্তানদের যথোপযুক্ত শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, অধিকারহীন নাগরিকের পক্ষে কোনো দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। তাই উল্লিখিত অধিকারগুলো যথাযথভাবে ভোগের মাধ্যমেই একজন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব-কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করতে সক্ষম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন