যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

নওশাদ তার বন্ধু অর্ণবকে জিজ্ঞেস করে, “কীভাবে আরোহের সংজ্ঞা দেওয়া যায়?" অর্ণব উত্তর দেয়, "যা অবরোহ নয় তাই আরোহ"। শিক্ষক তাদের কথা শুনে বললেন, লক্ষ রাখবে, “সংজ্ঞায় জাত্যর্থের পূর্ণ বিবৃতি প্রকাশ পাবে, কমও নয় বেশিও নয়"।

  1. ক)

    বর্ণনা কী?

    (1)
  2. খ)

    পরম নিয়মসমূহের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    অর্ণবের উত্তরে সংজ্ঞার কোন নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শিক্ষকের কথাটি সঠিকভাবে না মানলে সৃষ্ট যে কোনো দুটি অনুপপত্তি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের আসন্নতম জাতি উল্লেখ না করে তার উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করার নামই হলো বর্ণনা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। পরম নিয়মসমূহ (যেমন— প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বা কার্যকারণ নিয়ম) হলো সর্বোচ্চ বা মৌলিক নিয়ম, যেগুলোর ওপর কোনো উচ্চতর জাতি নেই এবং এগুলো স্বতঃসিদ্ধ। কোনো উচ্চতর জাতি না থাকায় এদের যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্ণবের উত্তরে যৌক্তিক সংজ্ঞার পঞ্চম নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে। সংজ্ঞার পঞ্চম নিয়ম অনুযায়ী, "যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সদর্থক সম্ভব হলে সে পদটিকে কোনো নঞর্থক শব্দ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না।" কিন্তু অর্ণব আরোহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, "যা অবরোহ নয় তাই আরোহ"— অর্থাৎ সে নঞর্থক শব্দের সাহায্যে সংজ্ঞা প্রদান করেছে। ফলে এখানে ‘নঞর্থক সংজ্ঞা’ অনুপপত্তি ঘটেছে। সদর্থকভাবে আরোহের প্রকৃত জাত্যর্থ (যেমন: বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন ইত্যাদি) প্রকাশ না করে কেবল নঞর্থকভাবে উপস্থাপন করার কারণে নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিক্ষকের কথাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়মকে নির্দেশ করে। নিয়মটি হলো— "যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সেই পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে; জাত্যর্থের চেয়ে কম বা বেশি উল্লেখ করা যাবে না।" এই নিয়ম সঠিকভাবে না মানলে যে অনুপপত্তিগুলো দেখা দেয়, তার মধ্যে দুটি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি: সংজ্ঞেয় পদে মূল জাত্যর্থের সাথে অতিরিক্ত কোনো উপলক্ষণ বা জাত্যর্থজাত গুণ উল্লেখ করলে এ অনুপপত্তি ঘটে। যেমন— "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন বিচারশক্তিসম্পন্ন জীব"। এখানে 'বিচারশক্তিসম্পন্ন' গুণটি জাত্যর্থেরই অংশ বা উপলক্ষণ, যা অতিরিক্ত উল্লেখ করায় বাহুল্য সংজ্ঞা ঘটেছে।

    ২. অবান্তর সংজ্ঞা অনুপপত্তি: সংজ্ঞেয় পদের পূর্ণ জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো অবিচ্ছেদ্য বা বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ উল্লেখ করলে এ অনুপপত্তি ঘটে। যেমন— "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন দ্বিপদ জীব"। এখানে 'দ্বিপদ' কোনো মৌলিক জাত্যর্থ নয়, বরং একটি অবান্তর লক্ষণ। অতিরিক্ত অবান্তর লক্ষণ যোগ করায় এটি অবান্তর সংজ্ঞায় রূপ নিয়েছে।

    সুতরাং, জাত্যর্থের কম বা বেশি উল্লেখ করলে পদের সঠিক অর্থ ব্যাহত হয় এবং এসব অনুপপত্তি দেখা দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন