জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
লামিয়া টবে একটি মরিচের বীজ রোপণ করল। কিছুদিন পরে সেই বীজ থেকে চারা উৎপন্ন হলো এবং ধীরে ধীরে চারাগাছটির দৈহিক বৃদ্ধি ঘটতে লাগল।
- ক)(1)
অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে?
- খ)(2)
Cycas- কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটির যে পর্যায়ে মেটাকাইনেসিস ঘটে, সেই পর্যায়ের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত বিভাজন প্রক্রিয়াটি অনিয়ন্ত্রিত হলে জীবদেহে কোনো প্রভাব পড়বে কি? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুদূর অতীত ভূ-তাত্ত্বিক যুগে উৎপত্তি লাভ করেও যেসব উদ্ভিদ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বর্তমান কাল পর্যন্ত টিকে রয়েছে, অথচ তাদের সমসাময়িক সকল ঘনিষ্ঠ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। Cycas বর্তমান যুগে আবির্ভূত হলেও এর বহু বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত সাইকাডোফিলিক্যালস (Cycadofilicales) বর্গের জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই সাইকাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিসের যে পর্যায়ে মেটাকাইনেসিস ঘটে, তা হলো মেটাফেজ পর্যায়।
মেটাফেজ পর্যায়ের বর্ণনা:
১. মেটাকাইনেসিস: এ পর্যায়ের শুরুতে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয়। ক্রোমোজোমগুলোর বিষুবীয় অঞ্চলে বিন্যস্ত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে।
২. সেন্ট্রোমিয়ারের সংযুক্তি: প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার স্পিন্ডল যন্ত্রের ট্রাকশন ফাইবারের সাথে সংযুক্ত হয় এবং বাহু দুটি মেরুমুখী থাকে।
৩. সর্বাধিক খাটো ও মোটা হওয়া: এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমে সুপারকয়েলিং প্রক্রিয়ার ফলে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক খাটো, মোটা ও স্পষ্ট দেখায়।
৪. ক্রোমাটিডের স্পষ্টতা: প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি স্পষ্ট অনুদৈর্ঘ্য ক্রোমাটিডে বিভক্ত দেখা যায়, যা কেবল সেন্ট্রোমিয়ারে পরস্পর যুক্ত থাকে।
৫. নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের বিলুপ্তি: এ পর্যায়ের শেষের দিকে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস। এই বিভাজন প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে সুনিয়ন্ত্রিত হলেও এটি অনিয়ন্ত্রিত হলে জীবদেহে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. টিউমার সৃষ্টি: মাইটোসিস বিভাজন সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিন (যেমন- সাইক্লিন ও সাইক্লিন ডিপেন্ডেন্ট কাইনেজ বা Cdk) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে কোষ অস্বাভাবিক ও লাগামহীন গতিতে বিভাজিত হতে থাকে, যার ফলে জীবদেহে অস্বাভাবিক কোষপিণ্ড বা টিউমার সৃষ্টি হয়।
২. ক্যান্সার সৃষ্টি: অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সৃষ্ট টিউমার দুই ধরনের হতে পারে— বেনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্ট্যাসিস), যা ক্যান্সার নামে পরিচিত।
৩. টিস্যু ও অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট: অনিয়ন্ত্রিতভাবে সৃষ্ট ক্যান্সার কোষ স্বাভাবিক কোষগুলোর পুষ্টি ও স্থান দখল করে, ফলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং অঙ্গ বিকল হয়ে যায়।
৪. জীবের মৃত্যু: পরিশেষে, অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের কারণে সৃষ্ট জটিলতায় জীবের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।সুতরাং, মাইটোসিস প্রক্রিয়াটি জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত রূপ জীবদেহের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও