‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফাটি কি ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত বইয়ের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল— বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক গণতন্ত্র বলতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সীমিত ও পরোক্ষ নির্বাচকমণ্ডলীভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়।

    ১৯৫৯ সালে আইয়ুব খান এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি বা 'মৌলিক গণতন্ত্রী' নির্বাচিত হতেন। সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কিংবা আইনসভার সদস্যদের নির্বাচন করতে পারত না; বরং এই মৌলিক গণতন্ত্রীরাই নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার সদস্য নির্বাচন করতেন। মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া এবং ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন।

    উদ্দীপকের ছকে 'আইনগত কাঠামো আদেশ' (LFO), 'আওয়ামী লীগ-১৬৭', 'পাকিস্তান পিপলস পার্টি-৮৮' এবং 'ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার' সংক্রান্ত তথ্যগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ৩০ মার্চ 'আইনগত কাঠামো আদেশ' (Legal Framework Order) জারি করেন, যার অধীনে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রথম সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২টি (সংরক্ষিত নারী আসনসহ ১৬৯টি)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৭টি আসন (১৬০টি সাধারণ এবং ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন) পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে ৮৮টি (৮১টি সাধারণ এবং পরবর্তীতে নারী আসনসহ মোট ৮৮টি) আসন লাভ করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে এবং ষড়যন্ত্র শুরু করে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো স্পষ্টভাবে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনিবার্য করে তোলে।

    নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় ও সাংবিধানিক বৈধতা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগই ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। বাঙালির ছয় দফা ও ১১ দফা কর্মসূচির পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট গণরায় আসে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবি একটি দৃঢ় সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি লাভ করে।

    ২. দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত অবসান: ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের যে দ্বিজাতিতত্ত্ব ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের আনুষ্ঠানিক বিকাশ ঘটে।

    ৩. পাকিস্তানি সামরিক জান্তার মুখোশ উন্মোচন: নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া-ভুট্টো চক্র আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে এবং ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দেয়। এতে সমগ্র বাঙালি বুঝে যায় যে পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে গণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায় অসম্ভব।

    ৪. অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট: ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানি শাসকদের অস্বীকৃতির ফলেই ১৯৭১ সালের মার্চে ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মাধ্যমে গণহত্যা শুরু করলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। নির্বাচনের এই সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বৈধতা দেয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ভিত্তিপ্রস্তর। এ নির্বাচন না হলে বাঙালি জাতির স্বাধিকারের দাবি গণতান্ত্রিকভাবে বিশ্বদরবারে এত জোরালো হতো না এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ত্বরান্বিত হতো না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন