বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) 'শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা' বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটি সংলাপ রচনা করো।অথবা,(খ) প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে 'আমার ছোট বোন' বিষয়ে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর:ফোনটা বাজছে। বাড়ি থেকে ফোন। আমি নিশ্চিত ফোনটা আমার ছোট বোনই করেছে….
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক)-এর উত্তর:
'শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা' বিষয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংলাপ:
শিক্ষার্থী: শুভ সকাল, স্যার।
শিক্ষক: শুভ সকাল, রফিক। কেমন আছ? তোমাকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী: জ্বি স্যার, ভালো আছি। তবে প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই শিশু ও নারীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও সহিংসতার খবর দেখে মনটা ভারী হয়ে ওঠে।
শিক্ষক: তোমার অনুভূতি অত্যন্ত স্বাভাবিক। বর্তমানে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা আমাদের সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষার্থী: স্যার, এই সহিংসতার মূল কারণগুলো আসলে কী?
শিক্ষক: এর পেছনে রয়েছে শিক্ষার অভাব, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা। এছাড়া মাদকের বিস্তার এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহারও সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
শিক্ষার্থী: সমাজে তো আইন আছে, তবুও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না কেন, স্যার?
শিক্ষক: শুধু আইন থাকলেই হয় না, তার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ জরুরি। অনেক সময় সামাজিক লোকলজ্জা বা ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা নিতে পারেন না, যার সুযোগ অপরাধীরা পায়।
শিক্ষার্থী: এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে, স্যার?
শিক্ষক: এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক শিক্ষা। নারীকে ও শিশুকে সম্মানের চোখে দেখতে হবে। প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকেও এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।
শিক্ষার্থী: বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং সম্মিলিত প্রতিরোধই কেবল এটি থামাতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ, স্যার।
শিক্ষক: তোমাকেও ধন্যবাদ, ভালো থেকো।
অথবা,
(খ)-এর উত্তর:
আমার ছোট বোন
ফোনটা বাজছে। বাড়ি থেকে ফোন। আমি নিশ্চিত ফোনটা আমার ছোট বোনই করেছে।
পর্দার দিকে তাকিয়ে দেখলাম—'ছোট্ট বোন মিলি'। মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মিষ্টি গলার চঞ্চল সুর ভেসে এলো, "ভাইয়া! কেমন আছিস তুই? হোস্টেলে গিয়ে কি আমাকে একেবারেই ভুলে গেলি?"
মিলি আমার চেয়ে চার বছরের ছোট। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে মাত্র মাসখানেক হলো আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। জীবনে এই প্রথম বাড়ি ছেড়ে মেসে থাকা। মিলির মতো ছটফটে একটা প্রাণ ছাড়া বাড়িটা যে কতটা নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে, তা ওর গলার আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারলাম।
আমি বললাম, "তোকে কি ভোলা যায় রে পাগলী? সারাদিন তো তোর শাসন আর দুষ্টুমিই মিস করি! পড়াশোনা ঠিকঠাক চলছে?"
মিলি এক নিঃশ্বাসে বলল, "সব ঠিক চলছে। কিন্তু তুই সামনের শুক্রবার আসছিস তো? মা তোর জন্য তিলের নাড়ু বানিয়েছে, আর আমি তোর ঘরের পড়ার টেবিলটা গুছিয়ে রেখেছি। তুই না এলে আমি কিন্তু আর কথাই বলব না!"
ওর এই আবদার আর ভালোবাসার তীব্রতা আমার বুকটা ছুঁয়ে গেল। ছোটবেলা থেকেই মিলি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। বাবার বকুনি থেকে আমাকে বাঁচানো কিংবা লুকিয়ে আমার ব্যাগে পছন্দের চকলেট পুরে দেওয়া—সব ওরই কাজ। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশে একাকিত্ব যখন আমাকে ঘিরে ধরছিল, তখন মিলির একটি সাধারণ ফোন কল যেন একমুঠো তাজা বাতাস এনে দিল।
বললাম, "শুক্রবার সকালেই বাস ধরব রে মিলি। তোর জন্য অনেকগুলো গল্পের বই আর রাজশাহীর মিষ্টি নিয়ে আসছি।"
ওপাশে ওর খিলখিল হাসির শব্দ শুনলাম। ফোনটা রেখে জানালার বাইরে তাকালাম। ছোট বোনের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই তো জীবনকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর করে তোলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও