বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
তিন স্ত্রীর সাথে সংসার করেন আব্বাস আলী দফাদার। গত মাসে প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সী আরেকটি মেয়েকে আবার বিয়ে করে ঘরে এনেছে। এ অল্প বয়স্কা বউকে আব্বাস আলী কোনো পরপুরুষের সামনে যেতে দেয় না। কখনও কথার অন্যথা হলে বউকে নানাভাবে শাসন করে। একদিন পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার অপরাধে ছোট বউকে সে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখে। এ ঘটনায় বড় বউ খুব কষ্ট পায়। সারারাত সে ঘুমায় না। আবার কম বয়সী মেয়েটাকে যে ঘরে ডেকে নেবে সে সাহসও পায় না।
- ক)(1)
মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার কী মনে হয়েছিল?
- খ)(2)
মজিদের মুখে কে থু থু দিয়েছিল? কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? নিজস্ব মতামত দাও।
- ঘ)(4)
'রহিমার মাতৃহৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে কন্যা সদৃশ সন্তানটির জন্য'- উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাস অবলম্বনে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদকে প্রথম দেখে জমিলার মনে হয়েছিল যে, সে যেন তার দুলাভাই বা বয়স্ক কোনো মুরব্বি ধরনের মানুষ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের মুখে জমিলা থুথু দিয়েছিল।
মজিদ জমিলাকে নিজের বাধ্য ও অনুগত করতে চেয়েছিল। কিন্তু জমিলা ছিল স্বাধীনচেতা ও চঞ্চল স্বভাবের এক কিশোরী। মজিদের ভণ্ডামি, জোরপূর্বক ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া এবং খোদার নামে ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে জমিলা এক চরম অবাধ্যতা ও তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে। মজিদের জোর-জবরদস্তির প্রতিবাদ জানাতেই জমিলা মজিদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদার 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতিনিধিত্ব করে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, মজিদ বয়সের অনেক ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কিশোরী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে। সে জমিলাকে নিজের কঠোর নিয়মের শেকলে বন্দি রাখতে চায় এবং খোদার ভীতি প্রদর্শন করে শাসন করতে চেষ্টা করে। জমিলার চঞ্চলতা ও অবাধ্যতা সহ্য করতে না পেরে মজিদ তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়, এমনকি রাতে একাকী মাজারের খুঁটিতে বেঁধে রাখে।
উদ্দীপকের আব্বাস আলী দফাদারও একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও প্রথম স্ত্রীর অর্ধেক বয়সী এক অল্পবয়স্কা মেয়েকে বিয়ে করে। সে তার ছোট বউকে কড়া নজরদারিতে রাখে এবং তার ওপর অমানবিক শাসন চালায়। এমনকি পাশের বাড়িতে টিভি দেখার অপরাধে কনকনে শীতের রাতে তাকে ঘরের বাইরে বেঁধে রাখে। স্ত্রীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণ, কঠোর শাসন এবং অসম বয়সী নারীর ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর দিক দিয়ে আব্বাস আলী মজিদ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের প্রথম স্ত্রী রহিমা ছিল নিঃসন্তান, শান্ত এবং অত্যন্ত অনুগত এক নারী। বয়সের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা রহিমার কাছে মেয়ের মতোই ছিল। মজিদ যখন জমিলাকে শাসন করত কিংবা তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত করত, তখন রহিমার ভেতরের মাতৃহৃদয় কেঁদে উঠত। বিশেষ করে মজিদ যখন রাতের আঁধারে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে জমিলাকে মাজারে বেঁধে রেখে আসে, তখন রহিমার বুক ব্যথায় ফেটে যায়। মজিদের অন্ধ আনুগত্য ও ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রহিমা জমিলাকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ-মমতায় কাছে টেনে নিতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, আব্বাস আলীর ছোট বউয়ের ওপর চলা নির্যাতনের ঘটনায় বড় বউ মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পায়। কিশোরী মেয়েটিকে শীতের রাতে বাইরে বেঁধে রাখায় বড় বউ সারারাত ঘুমাতে পারে না এবং তীব্র কষ্টে ভোগে। তবে স্বামীর ভয়ে সে মেয়েটিকে ঘরে ডেকে নেওয়ার সাহস পায় না। এই মানসিক দ্বন্দ্ব ও কষ্ট রহিমার কন্যাসম জমিলার প্রতি মাতৃত্বের ব্যাকুলতার প্রতিচ্ছবি।
অতএব, উদ্দীপক ও উপন্যাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, নিপীড়িত অল্পবয়সী সতীনের প্রতি স্নেহশীল মানসিকতা এবং মাতৃত্বের যন্ত্রণা প্রকাশের দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও