জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
মাইক্রো RNA কী?
- খ)(2)
মেরিস্টেম কালচার করলে কেন জীবাণুমুক্ত উদ্ভিদ পাওয়া যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'X' প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'Y' চিত্রের 'O' অংশের জৈবপ্রযুক্তিতে গুরত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাইক্রো RNA (miRNA) হলো প্রায় ২১-২৫টি নিউক্লিওটাইড বিশিষ্ট ক্ষুদ্র, একক সূত্রক ও নন-কোডিং RNA অণু, যা ইউক্যারিওটিক কোষে জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ (Gene expression regulation) ও আরএনএ সাইলেন্সিং-এ ভূমিকা পালন করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের শীর্ষ বা কাক্ষিক মুকুলের অগ্রভাগে অবস্থিত ভাজক টিস্যু বা মেরিস্টেমে কোনো পরিবহন কলা (Vascular tissue) থাকে না। মেরিস্টেমের কোষগুলোর বিভাজনের গতি যেকোনো ভাইরাস বা জীবাণুর বিস্তারের গতির চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হয়। ফলে জীবাণু বা ভাইরাস এই অঞ্চলে প্রবেশ করে পৌঁছাতে পারে না। তাই জীবাণুগ্রস্ত উদ্ভিদেরও শীর্ষ মুকুলের মেরিস্টেম পৃথক করে টিস্যু কালচার করা হলে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও জীবাণুমুক্ত নতুন চারা উদ্ভিদ পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'X' দ্বারা উদ্ভিদ টিস্যু কালচার (Tissue Culture) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এর মূল ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো:
১. এক্সপ্লান্ট (Explant) নির্বাচন: সুস্থ, রোগমুক্ত ও উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত মাতৃউদ্ভিদ থেকে শীর্ষমুকুল, কাক্ষিক মুকুল বা পাতার অংশবিশেষ এক্সপ্লান্ট হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
২. পুষ্টি মাধ্যম (Culture medium) তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ, ভিটামিন, সুক্রোজ, ফাইটোহরমোন (যেমন- অক্সিন ও সাইটোকাইনিন) ও অ্যাগার মিশিয়ে উপযুক্ত মাধ্যম প্রস্তুত করা হয়।
৩. অটোক্লেভ জীবাণুমুক্তকরণ: পুষ্টি মাধ্যম ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে অটোক্লেভ যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপ ও চাপে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়।
৪. এক্সপ্লান্ট স্থাপন ও ক্যালাস সৃষ্টি: জীবাণুমুক্ত এক্সপ্লান্টকে কালচার মিডিয়ামে স্থাপন করা হয়। নিয়ন্ত্রিত আলো ও তাপমাত্রায় রেখে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অবিন্যস্ত কোষপিণ্ড বা 'ক্যালাস' (Callus) উৎপন্ন করা হয়।
৫. মূল ও অঙ্কুর সৃষ্টি: ক্যালাস থেকে নির্দিষ্ট হরমোনের প্রভাবে প্রথমে বিটপ এবং পরবর্তীতে মূল উৎপাদনকারী মাধ্যমে স্থানান্তরের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্ষুদ্র চারা (Plantlet) সৃষ্টি করা হয়।
৬. শক্তপোক্তকরণ ও স্থানান্তর: টেস্টটিউবে প্রস্তুত চারাগুলোকে টবে এবং পরবর্তীতে প্রাকৃতিক পরিবেশে অভিযোজিত (Hardening) করে মাঠে রোপণ করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'Y' একটি ব্যাকটেরিয়া কোষকে এবং চিহ্নিত 'O' অংশটি ব্যাকটেরিয়ার প্রধান ক্রোমোজোম বহির্ভূত স্বপ্রজননশীল দ্বিসূত্রক ও বৃত্তাকার DNA অণু অর্থাৎ প্লাজমিডকে (Plasmid) নির্দেশ করে।
জৈবপ্রযুক্তি তথা রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে প্লাজমিডের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. বাহক বা ভেক্টর (Vector) হিসেবে ব্যবহার: রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত জিন নির্দিষ্ট কোষে স্থানান্তর করার জন্য প্লাজমিডকে প্রধান বাহক বা ক্লোনিং ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্লাজমিডের রেস্ট্রিকশন সাইটে কাঙ্ক্ষিত জিন যুক্ত করে সহজেই পোষক কোষে প্রবেশ করানো যায়।
২. স্ব-প্রতিলিপন ক্ষমতা: প্লাজমিডের নিজস্ব অরিজিন অব রেপ্লিকেশন (ori) থাকায় এটি পোষক ক্রোমোজোমের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বাধীনভাবে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত জিনের অসংখ্য কপি বা ক্লোন তৈরি হয়।
৩. অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী মার্কার: প্লাজমিডে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন (যেমন- AmpR, TetR) থাকে, যা সিলেক্টেবল মার্কার (Selectable marker) হিসেবে কাজ করে ট্রান্সফরম্যান্ট কোষ বাছাই করতে সহায়তা করে।
৪. ওষুধ ও হরমোন উৎপাদন: মানুষের ইনসুলিন, ইন্টারফেরন, বৃদ্ধির হরমোন এবং বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন তৈরিতে প্লাজমিডের মাধ্যমে মানব জিনকে ব্যাকটেরিয়ায় প্রবেশ করিয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়।
৫. কৃষি ও ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি: Agrobacterium tumefaciens ব্যাকটেরিয়ার 'Ti-প্লাজমিড' ব্যবহার করে উদ্ভিদে কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে উন্নত, ক্ষতিকর কীটপ্রতিরোধী (যেমন- Bt তুলা/বেগুন) ও প্রতিকূলতাসহিষ্ণু ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।সুতরাং, আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও জৈবপ্রযুক্তির সমগ্র প্রক্রিয়ায় প্লাজমিডের ভূমিকা অপরিহার্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও