পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
সত্তরের দশকে একটি দেশ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪টি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে একটিসংগঠন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত পোষণ করেন এবং সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
বৈদেশিক নীতির সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
কেন 'সার্ক' গঠিত হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে সংগঠন এর সাদৃশ্য আছে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটিতে বাংলাদেশের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণে যে নীতি বা কর্মপন্থা গ্রহণ করে, তাকে বৈদেশিক নীতি বা পররাষ্ট্রনীতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের কল্যাণ সাধন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে 'সার্ক' (SAARC) গঠিত হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির সাথে পাঠ্যবইয়ের 'ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা' বা ওআইসি (OIC - Organisation of Islamic Cooperation)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরায়েল কর্তৃক জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করা হলে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ২৪টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হন এবং ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) গঠিত হয়।
উদ্দীপকে একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষাপটে যে আন্তর্জাতিক সংগঠন গঠনের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ওআইসি প্রতিষ্ঠার পটভূমিকেই নির্দেশ করে। ওআইসি বিশ্ব মুসলিমের সংহতি ও অধিকার রক্ষার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সংস্থা অর্থাৎ ওআইসিতে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয়।
১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওআইসির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ ওআইসির নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সংহতি ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
এছাড়া, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে বাংলাদেশ সক্রিয়। বাংলাদেশে ওআইসির সহায়তায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসির সমর্থন আদায় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ওআইসিতে বাংলাদেশ সবসময়ই শান্তি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পক্ষে এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও