ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
ভিনদেশি বণিকরা যুদ্ধে জয়ী হয়ে ঔপনিবেশিক অঞ্চলে যে শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, তাতে অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দেশরক্ষা ছাড়া তাদের অন্য কোনো দায়-দায়িত্ব ছিল না। এ অভিনব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাহীন করা। দায়িত্বহীনতার জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং দেশময়। অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ভারতে আগমন করেন?
- খ)(2)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলার জনজীবনে উক্ত ঘটনা যে বিপর্যয় বয়ে এনেছিল পঠিত বিষয়ের নিরিখে সে বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাস্কো দা গামা প্রথম পর্তুগিজ নাবিক হিসেবে ভারতে আগমন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রধান কারণ ছিল রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ফলে কোম্পানির কর্মচারীদের অতিরিক্ত কর আদায়, তীব্র শোষণ এবং ১৭৬৯ সালের অনাবৃষ্টি ও খরা। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং খাদ্যশস্যের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলায় ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সন) এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয় যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের লর্ড ক্লাইভ প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন' ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। এর ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার মতো অর্থ ও ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পায়, কিন্তু তাদের কোনো প্রশাসনিক বা জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব ছিল না। অন্যদিকে নবাবের হাতে ন্যস্ত থাকে কেবল প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব, কিন্তু অর্থ ও ক্ষমতা না থাকায় তিনি ছিলেন ক্ষমতাহীন। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বিজয়ী ভিনদেশি বণিকরা দায়িত্বহীনভাবে শুধু অর্থ ও দেশরক্ষা নিয়েছিল এবং দেশীয় শাসকদের ক্ষমতাহীন করেছিল, যা ক্লাইভের দ্বৈত শাসনের মূল প্রতিচ্ছবি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলার জনজীবনে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে এনেছিল—এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ একমত।
দ্বৈত শাসনের ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা চরম অর্থলোলুপ হয়ে ওঠে এবং বাংলার কৃষকদের ওপর করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। নবাবের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব থাকলেও কোনো অর্থনৈতিক ক্ষমতা ছিল না, ফলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা প্রজার সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। দায়িত্বহীন ক্ষমতা এবং ক্ষমতাহীন দায়িত্বের এই সংমিশ্রণ পুরো শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে দেশে চূড়ান্ত অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) বাংলা এক শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়, যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার তৎকালীন মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় এক কোটি মানুষ) অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সুতরাং, দ্বৈত শাসন বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনে অবর্ণনীয় বিপর্যয় ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও