সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

সৌম্য টেলিভিশনের একটি চ্যানেলে একটি অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান দেখছিল। সেখানে উপস্থাপক বিভিন্ন ধরনের ভিক্ষুকদের সাথে কথা বলে তাদের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরছিলেন। দেখা গেল প্রকৃত ভিক্ষুকের চেয়ে ছদ্মবেশী ও ব্যবসায়ী ভিক্ষুকের সংখ্যাই বেশি। সৌম্য ইংল্যান্ডের একটি আইনের কথা শুনলো যা ভিক্ষুকদেরকে কর্মীতে। রূপান্তর করেছিল।

  1. ক)

    ইংল্যান্ডে বসতি আইনটি কত সালে প্রণীত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক বিমা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সৌম্যের দেখা ভিক্ষুকদের জন্য ইংল্যান্ডের তৎকালীন যে আইনটি প্রযোজ্য তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দরিদ্রদের জন্য এ ধরনের আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংল্যান্ডে বসতি আইনটি (Act of Settlement) ১৬৬২ সালে প্রণীত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বিমা হলো সামাজিক নিরাপত্তার এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে চাকরিজীবী বা শ্রমিক শ্রেণি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক চাঁদা বা প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও আপৎকালীন ঝুঁকি (যেমন- অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব বা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি) মোকাবিলায় পূর্বনির্ধারিত আর্থিক সুবিধা লাভ করে। এটি মূলত ব্যক্তির নিজের অবদানের ওপর ভিত্তি করে গঠিত অধিকারভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ছদ্মবেশী ও ব্যবসায়ী ভিক্ষুকদের কর্মীতে রূপান্তর করার প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক '১৬০১ সালের দরিদ্র আইন' (দ্যা এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন)-এর প্রতিফলন দেখা যায়।

    ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে দেওয়া হলো:
    ১. দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ: এ আইনে দরিদ্রদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়— সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor), অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor) এবং নির্ভরশীল শিশু (Dependent children)।
    ২. সক্ষম ভিক্ষুকদের কাজের বাধ্যবাধকতা: সক্ষম ও কর্মক্ষম দরিদ্র বা ভিক্ষুকদের সংশোধনাগার বা কর্মশালায় (Workhouse) কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হতো এবং ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল।
    ৩. অক্ষমদের সহায়তা: অক্ষম ও পঙ্গু দরিদ্রদের জন্য আস্থাগার বা দরিদ্রাগারে (Almshouse) আশ্রয় ও খাদ্য-বস্ত্রের মতো প্রত্যক্ষ সাহায্য দেওয়া হতো।
    ৪. শিশুদের প্রশিক্ষণ: নির্ভরশীল এতিম শিশুদের দায়িত্বপালন বা উপযুক্ত বয়সে বিভিন্ন কারিগর বা শিক্ষানবিশ (Apprentice) হিসেবে কাজ শেখানো হতো, যাতে তারা ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
    ৫. দরিদ্র কর ও প্রশাসন: স্থানীয় পর্যায়ে প্যারিশভিত্তিক 'ওভারসিয়ার' নিয়োগ এবং তাদের মাধ্যমে কর আদায় করে দরিদ্রদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব পরিচালনা করা হতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দরিদ্র ও ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের মতো কার্যকর নীতিমালা ও ব্যবস্থার প্রয়োগের যথেষ্ট যৌক্তিকতা ও সম্ভাবনা রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজে প্রকৃত ভিক্ষুকের চেয়ে ছদ্মবেশী ও পেশাদার ভিক্ষুকের আধিক্য বিদ্যমান। বাংলাদেশের শহরে ও গ্রামীণ জনপদেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এখানে বহু কর্মক্ষম মানুষ আয়-রোজগারের সহজ পথ হিসেবে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা জাতীয় অগ্রগতির পরিপন্থি।

    ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মূল শিক্ষা হলো সক্ষম দরিদ্রদের চিহ্নিত করে কাজের ব্যবস্থা করা এবং অক্ষমদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
    ১. সক্ষম ভিক্ষুকদের চিহ্নিতকরণ ও প্রশিক্ষণ: আইনটির আদলে বাংলাদেশে পেশাদার ও কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
    ২. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার: প্রকৃত অক্ষম, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এনে পূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা যায়।
    ৩. ভিক্ষাবৃত্তি নিরসন আইনের কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশে বিদ্যমান 'ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন, ২০১১' থাকলেও এর প্রয়োগ সীমিত। ১৬০১ সালের আইনের মতো সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো ও তদারকি নিশ্চিত করলে আইনের কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব।

    সুতরাং, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের সক্ষম-অক্ষম বিভাজন ও কর্মসংস্থানমুখী কৌশল যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন