বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রামের স্কুল শিক্ষক বাবা তমিজুদ্দীন তাঁর ছেলে রাসেলকে শহরের বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠায়। রাসেল ডাক্তার হয়ে বাবার মুখ উজ্জ্বল করে ফিরে আসে গ্রামে।তার ইচ্ছা গ্রামের অসহায়, দুস্থ রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তুলবেএবং তাবিজ-কবজ, ঝাড়-ফুঁক ও পানিপড়া প্রভৃতি অন্ধ বিশ্বাস থেকে গ্রামবাসীদেরমুক্ত করবে। কিন্তু ব্যাপারটা গ্রামের মোড়ল করিম খান মেনে নিতে পারে না। রাসেলযাতে গ্রামের মানুষদের সচেতন করতে না পারে সেই চেষ্টা করতে থাকে সে, কিন্তুরাসেল কোনো দিকে কর্ণপাত না করে এগিয়ে যায় নিজের লক্ষ্যের দিকে।
- ক)(1)
‘তোমার দাড়ি কৈ মিঞা?’ উক্তিটি কার?
- খ)(2)
“এখন সে ঝড়ের মুখে উড়ে চলা পাতা নয়, স্বচ্ছলতায় শিকর গাড়া বৃক্ষ।”- উক্তিটির অর্থ কী? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাসেল চরিত্রটির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের তুলনীয় চরিত্র কোনটি? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাস উভয়ই অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনজীবনের আলেখ্য।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘তোমার দাড়ি কৈ মিঞা?’ উক্তিটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী ভণ্ড মজিদের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“এখন সে ঝড়ের মুখে উড়ে চলা পাতা নয়, স্বচ্ছলতায় শিকর গাড়া বৃক্ষ।”— উক্তিটির মাধ্যমে মজিদের অতীত নিঃস্ব, অনিশ্চিত জীবনের বিপরীতে বর্তমানের সচ্ছল ও সুপ্রতিষ্ঠিত সামাজিক অবস্থানকে বোঝানো হয়েছে।
একসময় মজিদ অনাহারে-অর্ধাহারে ভাসমান পাতার মতো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাত। কিন্তু মহব্বতনগর গ্রামে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বানিয়ে ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে সে গ্রামবাসীর ওপর নিজের প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে তার জীবনে ধন-সম্পদ, সচ্ছলতা ও প্রতিপত্তি আসে, যার ফলে সে সমাজে গভীর শিকড়যুক্ত এক প্রভাবশালী বৃক্ষের মতো স্থায়ী ও অটল আসন গেড়ে বসে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাসেল চরিত্রটির সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের আধুনিক মনস্ক যুবক 'আক্কাস' চরিত্রের তুলনা করা যায়।
‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখা যায়, আক্কাস শহরের স্কুল থেকে কিছুটা লেখাপড়া শিখে গ্রামে ফিরে এসে কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীদের আলোর দিশা দিতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের সন্তানদের শিক্ষিত ও সচেতন করা, যাতে তারা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারমুক্ত হতে পারে।
উদ্দীপকের রাসেলও উচ্চশিক্ষিত হয়ে গ্রামে ফিরে এসে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অসুস্থ মানুষের সেবা করতে চায় এবং তাদের তাবিজ-কবজ, ঝাড়-ফুঁক ও পানিপড়ার মতো অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করার ব্রত গ্রহণ করে। গ্রামকে কুসংস্কারমুক্ত করে আধুনিক ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তরিত করার অভিন্ন চেতনার কারণে রাসেল চরিত্রের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রটির পূর্ণ সংগতি ও সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাস উভয়ই অন্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনজীবনের আলেখ্য।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কীভাবে একটি গ্রামীণ সমাজ তীব্র ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও অলৌকিক বিশ্বাসের অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে মজিদের সাজানো মাজারকে অলৌকিক শক্তির উৎস মনে করে ভয় ও ভক্তিতে সমর্পণ করে। সেখানে আধুনিক চিকিৎসা ও যুক্তির কোনো স্থান ছিল না; রোগ-শোকের প্রতিকার হিসেবে পানি-পড়া, তাবিজ-কবজ ও পীরের দোয়ার ওপর মানুষ অন্ধভাবে নির্ভর করত। আক্কাস যখন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে মানুষকে সচেতন করতে চায়, তখন মজিদ ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে তার স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভেস্তে দেয়।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকের গ্রামীণ সমাজেও সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা ছেড়ে তাবিজ-কবজ, ঝাড়-ফুঁক ও পানিপড়ার মতো কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। সেখানে ডাক্তার রাসেল যখন মানুষের চিকিৎসার আধুনিক ব্যবস্থা ও কুসংস্কার দূর করার উদ্যোগ নেয়, তখন প্রভাবশালী মাতব্বর করিম খান তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যা গ্রামীণ ক্ষমতার সাথে অজ্ঞতার আঁতাতকে প্রকাশ করে।
উভয় প্রেক্ষাপটেই দেখা যায়, গ্রামীণ সমাজ অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অতল গহ্বরে বন্দি এবং স্বার্থান্বেষী সমাজপতি বা ধর্মব্যবসায়ীরা সেই অজ্ঞতাকে ব্যবহার করে তাদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চায়। অতএব, উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাস—উভয় আখ্যানই সার্বিকভাবে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনজীবনের নিপুণ দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও