অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশের শিল্প সম্পর্কে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক নাসির মামুন বলেন, পাট, চামড়া ও তৈরির পোশাক ইত্যাদি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প। ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, মূলধনের স্বল্পতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ইত্যাদি বাংলাদেশের শিল্পের অনগ্রসরতার প্রধান কারণ। সম্প্রতি সরকার দেশের দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নীতি গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    কুটির শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্পের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের যেসব সমস্যার কথা বলা হয়েছে তা সমাধানে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারে তা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রধানত পরিবারের সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প পুঁজিতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে গড়ে ওঠে, তাকে কুটির শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক তন্তুর বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির কারণে পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। কৃত্রিম পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে বিশ্বজুড়ে পাটজাত ব্যাগ ও মোড়কের ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নত জাতের পাট উৎপাদন এবং পাট পাতার চা, জিও-টেক্সটাইল, পাট ও সুতার মিশ্রণে আধুনিক টেক্সটাইল পণ্য তৈরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় পাট শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অধ্যাপক নাসির মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্পের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় শিল্প হলো তৈরি পোশাক (Ready-Made Garments - RMG) শিল্প, যা দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাত।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান দিকগুলো হলো:
    ১. রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ: বাংলাদেশের মোট জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
    ২. বিপুল কর্মসংস্থান: এ শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক নিয়োজিত, যার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই নারী। ফলে এটি নারী ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে অনন্য ভূমিকা রাখছে।
    ৩. আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান: সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যয় এবং শ্রমিকের দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশের অন্যতম।
    ৪. পশ্চাৎসংযোগ (Backward Linkage) শিল্পের বিকাশ: সুতা কাটা, ডায়িং ও আনুষঙ্গিক এক্সেসরিজ শিল্পের বিকাশে তৈরি পোশাক খাত ব্যাপক অবদান রাখছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের শিল্পের অনগ্রসরতার যেসব কারণ যেমন- মূলধনের স্বল্পতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব, দক্ষ শ্রমিকের অভাব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিরসনে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ১. অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিরসন: অর্থনৈতিক অঞ্চল (EZ), বিদ্যুৎকেন্দ্র, সড়ক, সেতু ও বন্দর নির্মাণে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ অর্থায়নে দ্রুত ও কার্যকর অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
    ২. মূলধনের সংকট দূরীকরণ: সরকার একা বড় শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অক্ষম হলে বেসরকারি খাতের দেশি-বিদেশি উদ্বৃত্ত মূলধনকে শিল্পায়নে কাজে লাগানো যায়।
    ৩. প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা: বেসরকারি খাতের উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা দক্ষতা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বৃহৎ শিল্প প্রকল্পগুলোতে সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়।
    ৪. মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি: সরকার ও শিল্প মালিকদের যৌথ উদ্যোগে আধুনিক পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলে শিল্পোপযোগী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা সম্ভব।

    সুতরাং, সরকারি নীতিগত সহায়তা এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের গতিশীলতার সমন্বয়ে পিপিপি (PPP) দেশের সামগ্রিক শিল্প অনগ্রসরতা দূর করে দ্রুত শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন