‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দেশবন্ধু উপাধিতে ভূষিত বিশিষ্ট বাঙালি রাজনীতিবিদ জীবন ভর দেশ সেবার মহান ব্রতে আত্মনিয়োগ করে জাতিকে অসম্প্রদায়িক রাজনীতি শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

  1. ক)

    বাঙালি কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত কাকে বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    নবাব আব্দুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক নেতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় উক্ত নেতার অবদান আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি কৃষককূলের মুক্তির অগ্রদূত বলা হয় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেভাবে উত্তর ভারতে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে মুসলমানদের পশ্চাৎপদতা দূর করেছিলেন, ঠিক একইভাবে নবাব আব্দুল লতিফ উনিশ শতকে বাংলার অনগ্রসর মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা ও চেতনার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুসলমানদের শিক্ষার প্রসার এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কারণে তাঁকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত রাজনৈতিক নেতা 'দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ' (সি. আর. দাশ)-এর মিল রয়েছে।

    চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন বিশ শতকের ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনের এক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, দূরদর্শী আইনজীবী এবং সমাজসেবক। উদ্দীপকে 'দেশবন্ধু' উপাধির উল্লেখ রয়েছে, যা চিত্তরঞ্জন দাশের প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রদত্ত হয়েছিল।

    তিনি আজীবন বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন। ফলে উদ্দীপকের দেশপ্রেমিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুণাবলি সরাসরি চিত্তরঞ্জন দাশের রাজনৈতিক জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের অবদান ছিল যুগান্তকারী ও অনন্য।

    ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই ছিল তাঁর রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৯২৩ সালে ঐতিহাসিক 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা 'বাংলা চুক্তি' স্বাক্ষর করেন, যা ভারতীয় রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য মাইলফলক।

    এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি অবিভক্ত বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরি ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমানদের ন্যায্য অধিকার মেনে নিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি বিপুল সংখ্যক মুসলিম তরুণকে নিয়োগ প্রদান করে অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    চিত্তরঞ্জন দাশ বিশ্বাস করতেন যে, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ব্যতীত স্বরাজ অর্জন অসম্ভব। তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ছিল। সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায়, ভারতবর্ষে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় চিত্তরঞ্জন দাশের অবদান ছিল অত্যন্ত কার্যকর ও দূরদর্শী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন