বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

চারিদিকে যখন আকালের ভয়াবহতা তখন জয়গুন তার সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু করে। সন্তানদের কথা ভেবে সমস্ত সংকোচ ও লোকলজ্জা পেছনে ফেলে কাজ খুঁজতে থাকে জয়গুন। গ্রামে কোনো কাজ না পেয়ে সে শহরে একটি খাবার হোটেলে কাজ নেয়। দিন-রাত পরিশ্রম করে যা পায়, তা দিয়ে সে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালায়। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা ও নিরাপদ জীবনে পৌছে দেওয়ার জন্য সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কাজ শেষে অনেক রাতে সে বাড়িতে ফেরে। নানা লোকের নানা কথা, তাদের হাসি-তামাশা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য আর অপমান কিছুই তাকে তার সংকল্প থেকে সরাতে পারেনি।

  1. ক)

    'সালতি' কী?

    (1)
  2. খ)

    "মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি"-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জয়গুনের উপার্জনের পথ ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির উপার্জনের পথ ভিন্নতর কেন? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের জয়গুনের সংগ্রামী জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সন্তান আর মাসি-পিসির জীবন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হলো আহ্লাদী।"-উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সালতি' হলো শালকাঠ বা অন্য কোনো শক্ত কাঠ দিয়ে তৈরি সরু লম্বা ডিঙি নৌকা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি"—কথাটি দ্বারা অভাব-অনটন এবং সামাজিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মাসি-পিসির নিঃশেষিত হয়ে পড়ার বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে।

    'মাসি-পিসি' গল্পে স্বামী পরিত্যক্তা নিঃস্ব মাসি ও পিসি পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদীকে আগলে রেখে শাক-সবজি বিক্রি করে কোনোমতে দিন গুজরান করত। একদিকে তীব্র অর্থনৈতিক অনটন, দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধির ভয়, অন্যদিকে গোকুল ও সমাজের লম্পটদের হাত থেকে আহ্লাদীকে বাঁচানোর সার্বক্ষণিক উদ্বেগ—এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে তাদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হতো। প্রতিনিয়ত কেবল প্রাণ বাঁচিয়ে রাখার ন্যূনতম লড়াই করতে গিয়েই তাদের শরীরের সমস্ত জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাস্তব পরিস্থিতি, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে উদ্দীপকের জয়গুন এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসির উপার্জনের পথ ভিন্নতর।

    উদ্দীপকের জয়গুন গ্রামে কাজ না পেয়ে শহরে চলে যায় এবং একটি খাবার হোটেলে দিন-রাত শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করে। শহরকেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক শ্রমে যুক্ত হয়ে সে সন্তানদের জন্য উপার্জনের পথ বেছে নেয়, যেখানে লোকলজ্জা ও মানুষের উপহাস উপেক্ষা করে তাকে টিকে থাকতে হয়।

    অন্যদিকে, 'মাসি-পিসি' গল্পের বিধবা মাসি ও পিসি গ্রামে থেকেই গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে যুক্ত হয়ে জীবনসংগ্রাম পরিচালনা করে। তারা গাঁয়ের চাষিদের কাছ থেকে লাউ, কুমড়া, তরিতরকারি ইত্যাদি সস্তায় কিনে সালতিতে করে ক্যানেল বেয়ে শহরের বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। নিজেদের শ্রম ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল জীবিকা গড়ে তোলে। জয়গুনের ক্ষেত্রে উপার্জনের পথ ছিল হোটেলে শ্রমিকের চাকরি, আর মাসি-পিসির পথ ছিল গ্রামীণ শাকসবজির ক্ষুদ্র ব্যবসা। পরিবেশ ও পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণেই তাদের উপার্জনের পথ ভিন্নতর হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের জয়গুনের সংগ্রামী জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সন্তান আর মাসি-পিসির জীবন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হলো আহ্লাদী”—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, চরম আকালের মধ্যে জয়গুন লোকলজ্জা ও সমাজের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য অগ্রাহ্য করে শহরে খাবার হোটেলে দিন-রাত হাড়ভাঙা খাটুনি করে। তার এই লড়াইয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। অর্থাৎ সন্তানের কল্যাণই জয়গুনের সমস্ত প্রতিকূলতা জয়ের চালিকাশক্তি।

    একইভাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'মাসি-পিসি' গল্পেও মাসি এবং পিসির সমগ্র অস্তিত্ব ও সংগ্রামের মূলেই রয়েছে তাদের একমাত্র স্নেহের পাত্রী পিতৃহীন-মাতৃহীন আহ্লাদী। মহামারিতে আহ্লাদীর পরিবারের সবাই মারা গেলেও মাসি-পিসি তাকে নিজেদের কাছে আশ্রয় দেয়। আহ্লাদীর যৌতুকলোভী স্বামী যোগুর অত্যাচার এবং গ্রামের কুনজরসম্পন্ন গোকুল ও তার গুন্ডাদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতেই দুই বিধবা একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করে। তরিতরকারি বিক্রি করে উপার্জিত সামান্য খাদ্যে আহ্লাদীকে পুষ্ট রাখা এবং লাঠি-বঁটি হাতে তাকে রক্ষা করার সংকল্প—সবকিছুর মূলেই ছিল আহ্লাদী।

    সুতরাং দেখা যায়, জয়গুনের সংগ্রামের মূল অনুপ্রেরণা যেমন তার সন্তানেরা, তেমনি মাসি ও পিসির অস্তিত্ব ও লড়াইয়ের একমাত্র আশ্রয়বিন্দু আহ্লাদী। তাই প্রদত্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন