যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত -১ : পাখি হয় মরণশীল । পশু হয় মরণশীল । মানুষ হয় মরণশীল । .. সকল প্রাণী হয় মরণশীল । দৃষ্টান্ত -২ : সকল দার্শনিক হয় সৎ । প্লেটো হয় দার্শনিক । ... প্লেটো হয় সৎ

  1. ক)

    অনুমান কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    অমাধ্যম অনুমান প্রকৃত অনুমান নয় কেন ?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত -১ কোন ধরনের অনুমানকে নির্দেশ করে ? ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত -১ এবং দৃষ্টান্ত -২ এর মধ্যকার সম্পর্ক পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিরূপণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যুক্তিবিদ বেন ও মিলের মতে, এতে নতুন কোনো তথ্যের প্রকাশ ঘটে না; আশ্রয়বাক্যে যা অন্তর্নিহিত থাকে, সিদ্ধান্তে কেবল ভাষার পরিবর্তন ঘটিয়ে তা পুনরুক্ত হয়। যেহেতু এতে জানা থেকে অজানায় উত্তরণের প্রকৃত মানসিক উল্লম্ফন অনুপস্থিত, তাই অনেকেই অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান হিসেবে গণ্য করেন না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ আরোহ অনুমানকে নির্দেশ করে।
    যে অনুমানে কয়েকটি বিশেষ বস্তুর বা ঘটনার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।
    দৃষ্টান্ত-১-এ লক্ষ্য করা যায়, পাখি, পশু এবং মানুষের মরণশীলতার মতো কতিপয় বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—'সকল প্রাণী হয় মরণশীল'। এটি বিশেষ সত্য থেকে সার্বিক সত্যে উপনীত হওয়ার একটি আরোহী প্রক্রিয়া। সুতরাং, দৃষ্টান্ত-১ আরোহ অনুমানকে নির্দেশ করছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ হলো আরোহ অনুমান এবং দৃষ্টান্ত-২ হলো অবরোহ অনুমান। যুক্তিবিদ্যায় এই দুটি অনুমানের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পারস্পরিক পরিপূরক।

    প্রথমত, দৃষ্টান্ত-১ (আরোহ) বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে একটি সার্বিক সত্যে ('সকল প্রাণী হয় মরণশীল') পৌঁছায়। অপরদিকে, দৃষ্টান্ত-২ (অবরোহ) একটি সার্বিক সত্য ('সকল দার্শনিক হয় সৎ') থেকে শুরু করে বিশেষ ব্যক্তি বা সিদ্ধান্তের ('প্লেটো হয় সৎ') দিকে অগ্রসর হয়।

    দ্বিতীয়ত, আরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো বস্তুগত সত্যতা অর্জন করা, যেখানে প্রকৃতির নিয়ম এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে নতুন জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, অবরোহ অনুমানের মূল লক্ষ্য হলো আকারগত সত্যতা রক্ষা করা, যেখানে সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ওপর নির্ভরশীল।

    তৃতীয়ত, আরোহ এবং অবরোহ অনুমান একে অপরের পরিপূরক। অবরোহ অনুমানের ভিত্তি হিসেবে যে সার্বিক আশ্রয়বাক্য প্রয়োজন হয়, তা আরোহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার আরোহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত সার্বিক সত্যের প্রয়োগ ও কার্যকারিতা অবরোহ অনুমানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

    অতএব, দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ একে অপরের বিরোধী নয়, বরং যুক্তিপদ্ধতির ক্ষেত্রে পরস্পরের সহযোগী ও অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন