সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সহপাঠ প্রশ্ন

জহিরউদ্দীন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে হুমায়ূন যখন সিংহাসনে বসেন, তখন তারবয়স অল্প। সিংহাসনে বসার সাথে সাথেই চারদিকে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়।আপন আত্মীয়-স্বজন তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এমনকি আপন ভাইয়েরাওতাঁকে সহযোগিতা করেনি। তার পরেও বাবরের বড় ছেলে হিসেবে তিনি শক্ত হাতেশাসনকার্য চালিয়ে যান এবং মুঘল সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

  1. ক)

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি কার?

    (1)
  2. খ)

    “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।”- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    “উদ্দীপকের হুমায়ূনের সিংহাসনে আরোহণ আর নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণ অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।” আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “নবাব সিরাজউদ্দৌলা উদ্দীপকের হুমায়ূনের মতো হলে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।”বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রথম সংলাপটি ক্যাপ্টেন ক্লেটনের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ব্রিটিশ সিংহ ভয়ে লেজ গুটিয়ে নিলেন, এ বড় লজ্জার কথা।”—উক্তিটির মাধ্যমে ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে নবাবের কাছে ইংরেজদের নতিস্বীকার ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছেড়ে পলায়ন করাকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন।

    ইংরেজরা নিজেদের ‘ব্রিটিশ সিংহ’ বলে অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও অপ্রতিরোধ্য দাবি করত। কিন্তু নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন ফোর্ট উইলিয়াম আক্রমণ করেন, তখন ইংরেজ সৈন্যরা নবাবের শক্তির সামনে দাঁড়াতে না পেরে প্রাণভয়ে দুর্গ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ইংরেজদের এই শোচনীয় ও কাপুরুষোচিত পরাজয়কে কটাক্ষ করতেই উমায়াঁদকে উদ্দেশ্য করে সিনফ্রে এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সম্রাট হুমায়ূনের সিংহাসনে আরোহণ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসনে আরোহণের প্রেক্ষাপট প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে দেখা যায়, দাদু আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা যখন মাত্র তেইশ বছর বয়সে বাংলার মসনদে বসেন, তখন শুরু থেকেই তিনি তীব্র পারিবারিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন। তাঁর আপন খালা ঘসেটি বেগম এবং খালাতো ভাই শওকত জং তাঁর সিংহাসনপ্রাপ্তি মেনে নিতে পারেনি। এছাড়া প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ঘসেটি বেগমের দেওয়ান রাজা রাজবল্লভসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নবাবের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তরুণ বয়সে হুমায়ূন যখন মুঘল সিংহাসনে বসেন, তখন চারদিক থেকে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। আপন আত্মীয়-স্বজন ও সহোদর ভাইয়েরাও তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অসহযোগিতা করে।

    সুতরাং অল্প বয়সে সিংহাসন লাভ এবং দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনজন ও অভ্যন্তরীণ শত্রুদের তীব্র ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হওয়া—এই দিক দিয়ে হুমায়ূনের সিংহাসন আরোহণের সাথে সিরাজউদ্দৌলার সিংহাসন আরোহণ অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “নবাব সিরাজউদ্দৌলা উদ্দীপকের হুমায়ূনের মতো হলে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত।”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট হুমায়ূন সিংহাসনে আরোহণের পর আত্মীয়-স্বজন ও আপন ভাইদের তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও শক্ত হাতে কঠোরভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি চক্রান্ত নস্যাৎ করে মুঘল সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন।

    অন্যদিকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তরুণ, দেশপ্রেমিক ও আবেগপ্রবণ ছিলেন। তিনি মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ ও জগৎশেঠদের ক্রমাগত ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে পারেননি। বিশেষ করে মীর জাফর বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করলেও সিরাজউদ্দৌলা বারবার কোরআন ছুঁয়ে ক্ষমা প্রার্থনায় আবেগতাড়িত হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন এবং সেনাপতির দায়িত্বে বহাল রাখেন। সিরাজের এই অতিরিক্ত ক্ষমাশীলতা ও সিদ্ধান্তহীনতাই পলাশীর যুদ্ধে তাঁর পরাজয় ও নির্মম পরিণতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা যদি উদ্দীপকের হুমায়ূনের মতো আবেগ পরিহার করে শক্ত হাতে মীর জাফর ও অন্যান্য চক্রান্তকারীদের কঠোর শাস্তি দিতেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আপসহীন হতেন, তবে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার পরাজয় ঘটত না এবং বাংলার স্বাধীনতাও ইংরেজদের হাতে চলে যেত না। সুতরাং নবাব সিরাজউদ্দৌলা হুমায়ূনের মতো হলে নাটকের ট্র্যাজিক পরিণতি নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন হতে পারত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন