ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সালাম ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের অধ্যাপক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে প্রথম দিন তিনি একটি আয়াতের মানুষের পাপাচার থেকে আত্মরক্ষার উপায় ও পরকালের মুক্তির উপায় বর্ণনা করেন। তিনি দ্বিতীয় দিন অন্য একটি আয়াতের ব্যাখ্যায় পরকালীন জবাবদিহিতার প্রতি অনাস্থা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থাহীনদের করুণ পরিণতির প্রতি আলোকপাত করেন।
- ক)(1)
مُتَّقِينَ মুত্তাকির সংজ্ঞা লেখ।
- খ)(2)
الم এর মর্মার্থ ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
অধ্যাপক সালামের প্রথম দিনের বক্তব্যে কাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
অধ্যাপক সালামের দ্বিতীয় দিনের বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের করুণ পরিণতির কথা বর্ণনা কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুত্তাকি (مُتَّقِينَ) শব্দের অর্থ আল্লাহভীরু বা পরহেজগার। শরিয়তের পরিভাষায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং তাঁর নির্দেশিত বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলে, তাকে মুত্তাকি বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
الم (আলিফ-লাম-মীম) হলো হুরুফে মুকাত্তায়াত বা সাংকেতিক বর্ণমালা। পবিত্র কুরআনের ২৯টি সূরার শুরুতে এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফ ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলোর প্রকৃত ও নির্দিষ্ট অর্থ একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তবে এগুলোর মাধ্যমে মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে যে কুরআন যে আরবি বর্ণমালা দিয়ে রচিত, তা ব্যবহার করে কোনো মানবই এর অনুরূপ গ্রন্থ বা সূরা রচনা করতে সক্ষম নয়; এটিই কুরআনের অলৌকিকত্ব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক সালামের প্রথম দিনের বক্তব্যে 'মুত্তাকি' বা আল্লাহভীরু সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
কুরআনে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে ব্যয় করে। তারা কুরআন ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং পরকালের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে।
অধ্যাপক সালামের আলোচনায় এসেছে যে, পাপ থেকে আত্মরক্ষা করতে তাকওয়া বা খোদাভীতি প্রধান উপায়। একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমেই মানুষ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারে এবং পরকালে চিরস্থায়ী শান্তি বা জান্নাতের মুক্তি লাভ করতে পারে। অতএব, তাঁর প্রথম দিনের আলোচনায় মুত্তাকিদের গুণাবলী ও তাদের মুক্তির পথকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক সালামের দ্বিতীয় দিনের বক্তব্যে ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যক্তিরা হলো 'কাফির' ও 'মুনাফিক' বা পরকালীন জবাবদিহিতা ও আল্লাহর নির্দেশনাসমূহে অবিশ্বাসী ও অস্বীকারকারী সম্প্রদায়।
পবিত্র কুরআনে এদের চরম দুর্ভাগা ও করুণ পরিণতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে:
১. অন্তরে মোহর ও বিভ্রান্তি: আল্লাহ তাআলা কাফিরদের অন্তরে, কানে ও চোখে মোহর মেরে দেন, যার ফলে তারা সত্য দেখতে পায় না এবং হেদায়াত থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়।
২. জাহান্নামের কঠিন শাস্তি: আখিরাতে এদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ জাহান্নামের আগুন, যেখানে তারা চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে। তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত গাছ এবং পানীয় হবে ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
৩. লাঞ্ছনা ও অপমান: পরকালীন জবাবদিহিতায় তারা চরম অপদস্থ হবে এবং আল্লাহর রহমত থেকে চিরতরে বিতাড়িত হবে। আল্লাহকে অস্বীকার করার দরুন তাদের কোনো সৎকাজই সেখানে ফলপ্রসূ হবে না।
সুতরাং, সৃষ্টিকর্তার ওপর অবিশ্বাসী ও আখিরাত অস্বীকারকারীদের পরিণতি অত্যন্ত করুণ, যা কুরআন মাজিদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও