অর্থনীতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রথম থেকেই তপনের ইচ্ছা ছিল নিজ উদ্যোগে কিছু করা। প্রাইভেট পড়িয়ে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ পরিহার করে সে ৩ লাখ টাকা সঞ্চয় করে। লেখাপড়া শেষে যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে সে হাঁস ও ভেড়া পালনের প্রশিক্ষণ নেয়। সে তার জমানো টাকা থেকে ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনে এবং বাকি ২ লাখ টাকায় হাঁস ও ভেড়ার খামার শুরু করে। প্রথম বছরে তার নিট মুনাফা হয় ৩ লক্ষ টাকা। এই টাকার মধ্যে সে আবার ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনে এবং ১ লাখ টাকা তার খামারে বিনিয়োগ করে। গ্রামের পাশের বিলের পানিতে প্রচুর খাবার পেয়ে তার হাঁসের ব্যবসা জমে ওঠে। দ্বিতীয় বছরে এই ব্যবসা থেকে তার নিট লাভ হয় ৫ লাখ টাকা। তৃতীয় বছরে সে তার খামারের মূলধন ১৫ লাখ টাকায় উন্নীত করতে চায়। ব্যাংকও তাকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়। তৃতীয় বছরে তার নিট লাভ হয় ৯ লাখ টাকা। এই বছরে সে কোনো ব্যাংক ঋণ পরিশোষ করেনি।
- ক)(1)
স্থায়ী মূলধন কী?
- খ)(2)
মূলধন হচ্ছে উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান - ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
তপনের পক্ষে কি তৃতীয় বছরের কাঙ্ক্ষিত মূলধন জোগাড় করা সম্ভব? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সহায়তাসমূহ তপনের মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে কীভাবে ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন কাজে যেসব মূলধনী দ্রব্য দীর্ঘদিন ধরে বারবার ব্যবহৃত হয়, তাকে স্থায়ী মূলধন বলে (যেমন- জমি, ঘরবাড়ি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে মূলধন বলতে মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত সেই সম্পদকে বোঝায়, যা সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় ভবিষ্যৎ উৎপাদন কাজে সহায়তা করে। মূলধন প্রকৃতিপ্রদত্ত কোনো উপাদান নয়, এটি মানুষের পূর্ববর্তী উৎপাদনেরই একটি ফল। যেমন- একজন কৃষক যে ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করে তা পূর্বে উৎপাদিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে অধিক ধান উৎপাদনের জন্য মূলধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এজন্য মূলধনকে উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, তপনের পক্ষে তৃতীয় বছরের কাঙ্ক্ষিত ১৫ লাখ টাকা মূলধন জোগাড় করা সম্ভব।
উদ্দীপক অনুযায়ী, তপনের তহবিলের উৎসগুলো নিম্নরূপ:
১. প্রারম্ভিক সঞ্চয়পত্র ক্রয়: ১ লাখ টাকা।
২. দ্বিতীয় বছরে সঞ্চয়পত্র ক্রয়: ২ লাখ টাকা।
(অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রে মোট জমানো অর্থ = ১ + ২ = ৩ লাখ টাকা)
৩. খামারে পূর্বের বিনিয়োগ: শুরুতে ২ লাখ এবং পরবর্তীতে ১ লাখ, মোট ৩ লাখ টাকা।
৪. দ্বিতীয় বছরের অর্জিত নিট মুনাফা: ৫ লাখ টাকা।
৫. ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ঋণ: ৫ লাখ টাকা।তপন যদি সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলে (৩ লাখ টাকা), দ্বিতীয় বছরের মুনাফা ব্যবহার করে (৫ লাখ টাকা), ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে (৫ লাখ টাকা) এবং খামারের পূর্ববর্তী বিনিয়োগ ৩ লাখ টাকাসহ হিসাব করে, তবে তার মোট সংগৃহীত ও বিনিয়োগকৃত তহবিল দাঁড়ায়: ৩ + ৩ + ৫ + ৫ = ১৬ লাখ টাকা।
এমনকি শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্র (৩ লাখ), দ্বিতীয় বছরের নিট লাভ (৫ লাখ), ব্যাংক ঋণ (৫ লাখ) এবং খামারের আগের পুনর্বিনিয়োগকৃত তহবিল থেকেই সে সহজেই কাঙ্ক্ষিত ১৫ লাখ টাকার সংস্থান করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে তপনের কাঙ্ক্ষিত মূলধন ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করা সম্পূর্ণ সম্ভব। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রাকৃতিক সহায়তাসমূহ তপনের মূলধনের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ: যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে হাঁস ও ভেড়া পালনের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার মাধ্যমে তপনের মানবিক মূলধন ও দক্ষতার উন্নয়ন ঘটে। এই দক্ষতা তাকে কম খরচে সঠিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনায় সহায়তা করে।
২. প্রাকৃতিক সুবিধা (বিলের পানি ও খাবার): খামারের পাশের বিলের পানিতে হাঁসের জন্য প্রচুর প্রাকৃতিক খাবার পাওয়া উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। ফলে তুলনামূলক কম খরচে তার ব্যবসায় দ্রুত লাভজনক হয়ে ওঠে এবং প্রথম বছরে ৩ লাখ ও দ্বিতীয় বছরে ৫ লাখ টাকার নিট মুনাফা অর্জিত হয়, যা মূলধন সঞ্চয়নকে ত্বরান্বিত করে।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তা (ব্যাংক ঋণ): ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ৫ লাখ টাকার ঋণ তপনকে কাঙ্ক্ষিত বৃহদায়তন বিনিয়োগে সরাসরি মূলধনের সংকট দূর করতে সাহায্য করে।
সুতরাং দেখা যায়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অনুকূল পরিবেশ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ—এই বহুমুখী সহায়তা তপনের উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক মূলধনের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও