ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. মেহতা একজন জেনারেল ম্যানেজার। তিনি তার কারখানার বিভাগীয় প্রধানদের সাথে প্রায়ই সভা করেন। সকলের পরামর্শ শোনেন এবং করণীয় নির্ধারণ করেন। কিন্তু কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক কারও সাথে আলাপ না করে নিজে একাই অধস্তনদের টার্গেট নির্ধারণ করে দেন এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন। প্রথম দিকে কারখানার উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরে তা হ্রাস পেতে থাকে।
- ক)(1)
পরামর্শমূলক নির্দেশনা কী?
- খ)(2)
একজন নেতার ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
মি. মেহতার নেতৃত্বের ধরন কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উৎপাদন ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বের ধরনটি তুমি কি সমর্থন করো? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দেশনা প্রদানের পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন সংশ্লিষ্ট অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দেশ দেন, তাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি পরিচালনা করতে গিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির সম্ভাবনা জেনেও সাহসের সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়ার সামর্থ্যকে নেতার ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা বলে।
ভবিষ্যৎ সবসময় অনিশ্চিত। নেতাকে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যর্থতার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশায় দায়িত্ব নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা একজন দক্ষ নেতার অন্যতম প্রধান গুণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. মেহতার নেতৃত্বের ধরনটি হলো গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব।
যে নেতৃত্ব পদ্ধতিতে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে অধস্তনদের সাথে আলোচনা করেন, তাদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন, তাকে গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব বলে। এ ধরনের নেতৃত্বে কর্মীদের মনোবল ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জেনারেল ম্যানেজার মি. মেহতা তার কারখানার বিভাগীয় প্রধানদের সাথে প্রায়ই সভা করেন, তাদের পরামর্শ শোনেন এবং করণীয় নির্ধারণ করেন। কর্মীদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই প্রক্রিয়াটি সুস্পষ্টভাবে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের নির্দেশক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, আমি উৎপাদন ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বের ধরনটি সমর্থন করি না। তার অনুসৃত নেতৃত্বটি হলো স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব।
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা নিজে একাই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, অধস্তনদের মতামতের কোনো মূল্য দেন না এবং ভয়-ভীতি ও শাস্তির মাধ্যমে কাজ আদায় করতে চান। ফলে এ পদ্ধতিতে কর্মীরা কাজের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, তাদের মধ্যে অসন্তোষ জন্ম নেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক কারও সাথে আলোচনা না করে একাই অধস্তনদের জন্য কাজের টার্গেট নির্ধারণ করে দেন এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে কাজ আদায় করেন। যদিও প্রথম দিকে ভয় পেয়ে কর্মীরা কাজ করায় উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে কর্মীদের মানসিক চাপ ও অসন্তোষের কারণে উৎপাদন হ্রাস পেতে শুরু করে।
ভীতি প্রদর্শন করে সাময়িকভাবে কাজ আদায় করা গেলেও তা কখনো টেকসই ও স্থায়ী ফল বয়ে আনে না। প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে হলে কর্মীদের মতামতকে মূল্যায়ন করা এবং সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক। তাই উৎপাদন ব্যবস্থাপকের স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের ধরনটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও