বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
জান তোমরা? যেদিন অযোধ্যার লোকেরা সীতাকে বিসর্জন দিবার দাবি করিয়াছিল তাহার মধ্যে আমিও যে ছিলাম। আর সেই বিসর্জনের গৌরবের কথা যুগে যুগে যাহারা গান করিয়া আসিয়াছে আমিও যে তাদের মধ্যে একজন। আর, আমিও তো সেদিন লোকরঞ্জনের জন্য স্ত্রী পরিত্যাগের গুণ বর্ণনা করিয়া মাসিকপত্রে প্রবন্ধ লিখিয়াছি। বুকের রক্ত দিয়া আমাকে 'যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনি লিখিতে হইবে সে কথা কে জানিত।'
- ক)(1)
বরযাত্রীর দল কীসের পালা সেরে বের হয়ে গেল?
- খ)(2)
"তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই"-উক্তিটি কাকে উদ্দেশ্য করে কেন করা হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কথকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের কথক এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম স্বীয় ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিবাদ করলে দুজনের জীবনই সুন্দর হতে পারতো"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বরযাত্রীর দল খাওয়া-দাওয়ার পর্ব বা ভোজের পালা সেরে বের হয়ে গেল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষকে উদ্দেশ্য করে করেছিলেন।
অনুপমের মামা যৌতুকের স্বর্ণালঙ্কার যাচাই করার জন্য সেকরা নিয়ে এসে কন্যার পিতাকে অপমান করেন। সব গহনা খাঁটি প্রমাণিত হওয়ার পর এবং বরযাত্রীদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানোর পর শম্ভুনাথ সেন জানান যে, এমন হীনমন্য ও অবমাননাকর পরিবারে তিনি তাঁর মেয়েকে বিয়ে দেবেন না। তাই তিনি অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে বরযাত্রী ও বরপক্ষকে বিদায় জানাতে গাড়ি ডাকার কথা বলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কথকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের নিজের অন্যায় নীরবতা ও পরবর্তী জীবনের গভীর অনুশোচনার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম ছিল একজন ব্যক্তিত্বহীন ও মামার আজ্ঞাবহ যুবক। বিয়ের আসরে যখন তার মামা কল্যাণীর গহনা পরীক্ষা করে চরম অপমানজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন, তখন অনুপম কোনো প্রতিবাদ করেনি। ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। পরবর্তীতে কল্যাণীর মহত্ত্ব ও দেশব্রতের পরিচয় পেয়ে অনুপম নিজের ভীরুতা ও নিষ্ক্রিয়তার জন্য আজীবন অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হয়।
উদ্দীপকের কথকও অতীতে সমাজের অন্ধ সংস্কার মেনে সীতা বিসর্জনের গুণগান করেছিলেন এবং সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়াননি। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন তার নিজের জীবনেও সীতা বিসর্জনের মতো চরম বিয়োগান্তক ও অন্যায় পরিণতি নেমে আসে, তখন তিনি তীব্র আত্মগ্লানি ও অনুশোচনায় আক্রান্ত হন। অন্যায় সামাজিক আচরণের বিরুদ্ধে সময়মতো প্রতিবাদ না করে পরবর্তীতে নিদারুণ অনুশোচনায় ভোগার দিক থেকে উদ্দীপকের কথকের সাথে অনুপমের মানসিকতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের কথক এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম স্বীয় ব্যক্তিত্ববোধের জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতিবাদ করলে দুজনের জীবনই সুন্দর হতে পারত"—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপম সুশিক্ষিত হলেও স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিল না। মামার অযৌক্তিক ও নীচ মানসিকতার সামনে সে ছিল নীরব পুতুল। বিয়ের আসরে যৌতুকের লোভ ও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মামা যখন শম্ভুনাথ সেনকে অপমান করছিলেন, তখন অনুপম যদি ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে মামার অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করত, তবে বিয়েটি ভেঙে যেত না। ফলে অনুপম ও কল্যাণী উভয়ের জীবনেই একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক পারিবারিক সুখ নিশ্চিত হতে পারত। প্রতিবাদহীন কাপুরুষতার কারণেই অনুপমের জীবন চির আক্ষেপ ও অপূর্ণতায় পর্যবসিত হয়।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকের কথকও লোকরঞ্জনের খাতিরে এবং সমাজের অন্ধ প্রথাকে সমর্থন করে সীতা বিসর্জনের যৌক্তিকতা প্রচার করেছিলেন। তিনি প্রথার বিরুদ্ধে নিজের বিবেক ও ব্যক্তিত্ববোধ থেকে প্রতিবাদ করেননি। ফলস্বরূপ তাকেও চরম ব্যক্তিগত দুঃখ ও 'দ্বিতীয় সীতা বিসর্জন'-এর মতো যন্ত্রণাদায়ক অনুশোচনা বরণ করতে হয়েছে।
ব্যক্তিত্বহীনতা ও অন্যায়ের সাথে আপস মানুষের জীবনে আত্মগ্লানি ও ধ্বংস ডেকে আনে। অনুপম ও উদ্দীপকের কথক—উভয়েই যদি আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতেন, তবে তাঁরা অপূরণীয় ক্ষতি ও অনুশোচনা থেকে মুক্তি পেতেন এবং তাঁদের জীবন অর্থবহ ও সুন্দর হতে পারত। অতএব, মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও