ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব ইলিয়াস কুরআন এবং হাদিসে গভীর জ্ঞান লাভ করার পর অধ্যাপনা ও ফতোয়াদানে আত্মনিয়োগ করেন। ক্ষমতাসীন শাসকের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার কারণে তাকে ৭০টি বেত্রাঘাত করা হয়। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। অন্যদিকে, তার প্রতিবেশী আশরাফ অনেক সম্পদের মালিক কিন্তু তিনি তার জীবনের সকল বিষয়ে আর-কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত মাসআলা- মাসায়েলের তোয়াক্কা করেননি ।

  1. ক)

    ইমাম শাফেয়ি (র.)-এর মাযহাবের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “মুজতাহিদ ভুল করলেও প্রতিদানপ্রাপ্ত হবেন ।”— ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব ইলিয়াসের সাথে কোন বিখ্যাত মনীষীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আশরাফের কর্মকাণ্ডের শেষ পরিণতি বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইমাম শাফেয়ি (র.)-এর মাযহাবের নাম শাফেয়ি মাযহাব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বিচারক বা মুজতাহিদ যদি ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তিনি দুটি পুরস্কার পান। আর যদি তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেও ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তিনি একটি পুরস্কার পান। কারণ তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শরীয়তের বিধান অনুসন্ধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা বা সাধনা করেছেন। তাই তাঁর আন্তরিক চেষ্টা ও শ্রমের কারণে ভুল হওয়া সত্ত্বেও তিনি একটি প্রতিদান প্রাপ্ত হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব ইলিয়াসের সাথে বিখ্যাত ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমাম মালিক (র.)-এর মিল রয়েছে।

    ইমাম মালিক (র.) মদিনা শরিফে ইলমে হাদিস ও ফিকহে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করে অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানে আত্মনিয়োগ করেন। তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর মনসুরের আমলে জোরপূর্বক দেওয়া তালাক বা বাইয়াত কার্যকর নয় মর্মে ফতোয়া প্রদান করার কারণে গভর্নর জাফর ইবনে সুলায়মান তাঁকে ৭০টি বেত্রাঘাত করেন এবং তাঁর কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়। তবুও তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি এবং অন্যায়ের সাথে আপস করেননি।

    উদ্দীপকের জনাব ইলিয়াসও কুরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞান অর্জন করে অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানে লিপ্ত হন এবং শাসকের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে ফতোয়া দেওয়ায় ৭০টি বেত্রাঘাত সহ্য করেও অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে ইমাম মালিক (র.)-এর জীবনের সরাসরি সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আশরাফের কর্মকাণ্ডের শেষ পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক।

    জনাব আশরাফ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিজের জীবনে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত শরীয়তের মাসআলা-মাসায়েল বা বিধিবিধানের কোনো তোয়াক্কা করেননি। ইসলাম কেবল বিশ্বাসভিত্তিক ধর্ম নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত বিধান অমান্য করে নিজের ইচ্ছামতো জীবন পরিচালনা করা অবাধ্যতা ও খোদাদ্রোহিতার শামিল।

    ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত না হলে মানুষের দুনিয়াবি সম্পদ ও প্রাচুর্য কোনো উপকারে আসে না। এর পরিণতিতে ব্যক্তি পার্থিব জীবনে মানসিক অশান্তি, নৈতিক অবক্ষয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। আর পরকালে এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো কঠিন শাস্তি ও জাহান্নামের আযাব। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, যারা তাঁর বিধান উপেক্ষা করে জীবনযাপন করে, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা ও মর্মন্তুদ শাস্তি। অতএব, আশরাফ সাহেবের এই ধরনের দায়িত্বহীন ও শরীয়তবিরোধী জীবনযাত্রার শেষ পরিণতি হলো পরকালীন অনন্ত জীবনে ধ্বংস ও জাহান্নাম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন