ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যাকাত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হজে মাবরুর কী?

    (2)
  3. গ)

    'ক?' চিহ্নিত স্থানে কোন বিষয়ের কথা বলা হয়েছে? ইসলামে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'ঙ ?' চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি নির্ণয়পূর্বক আল্লাহর নৈকট্য হাসিলে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের পরিভাষায় নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কর্তৃক নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হজে মাবরুর অর্থ হলো কবুল হজ বা পুণ্যময় হজ। যে হজ সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি, লোকদেখানো মনোভাব, পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্ত থেকে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিশুদ্ধভাবে সম্পন্ন করা হয় এবং যা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়, তাকে হজে মাবরুর বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'হজে মাবরুরের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়' (সহিহ বুখারি)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই 'ক?' চিহ্নিত স্থানে ইসলামের প্রথম স্তম্ভ 'ঈমান' বা 'কালিমা/তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান' এর কথা বলা হয়েছে।

    ইসলামে ঈমানের গুরুত্ব অপরিসীম। ঈমান হলো ইসলামের মূল ভিত্তি বা শিকড়। আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, আখিরাত, তাকদির এবং পুনরুত্থানের প্রতি অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, মুখে স্বীকার করা এবং তদনুযায়ী আমল করাই হলো ঈমান। মানুষের জীবনের যাবতীয় ইবাদত ও নেক আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রধান পূর্বশর্ত ঈমান। ঈমান ব্যতীত সালাত, সাওম, যাকাত বা হজের মতো কোনো ইবাদতই ফলপ্রসূ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইসলামের ভিত্তি বর্ণনা করতে গিয়ে সর্বপ্রথম তাওহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বা ঈমানের কথাই উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, একজন মানুষকে মুসলিম হতে হলে সর্বাগ্রে ঈমান আনতে হয়, যা তাকে আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকর্মের পথে পরিচালিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকটি ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভকে নির্দেশ করে। ছকের 'খ' স্থানে সালাত, 'গ' স্থানে যাকাত এবং 'ঘ' স্থানে হজ উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং, পঞ্চস্তম্ভের ধারাবাহিকতায় 'ঙ ?' চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি হলো 'সাওম' বা রোজা।

    আল্লাহর নৈকট্য হাসিলে সাওমের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী:
    ১. তাকওয়া অর্জন: সাওমের মূল উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।' (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সত্ত্বেও কেবল আল্লাহর ভয়ে কোনো কিছু পানাহার না করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর উপস্থিতিকে সদা স্মরণ করে, যা তার সাথে আল্লাহর আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করে।

    ২. রিয়া বা লোকদেখানো ভাবমুক্ত ইবাদত: অন্যান্য ইবাদতে লোকদেখানো মনোভাব প্রকাশের সুযোগ থাকলেও রোজা কেবল আল্লাহর জন্যই রাখা হয়। তাই হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'সাওম আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।' (সহিহ বুখারি)।

    ৩. কুপ্রবৃত্তি দমন ও আত্মশুদ্ধি: সাওম মানুষের নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে আত্মশুদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। এটি মানুষকে মিথ্যা, গিবত, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রেখে আধ্যাত্মিক পূর্ণতা দান করে।

    ৪. গুনাহ মাফ ও ক্ষমা লাভ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।' এভাবে পাপমুক্ত পবিত্র হৃদয়ে আল্লাহর গভীর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হয়।

    অতএব, সাওম মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেয়, যা বান্দাকে আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন