অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'A' দেশের দামস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। দেশটিতে ২০১৯ ও ২০২০ সালের ভোস্তার সাম সূচক যথাক্রমে ১২৫ ও ১৫০। ফলস্বরূপ দেশটি কৃষক, সীমিত আয়ের জনগণ, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার ওপর বিভিন্ন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

  1. ক)

    ভোক্তার দাম সূচক কী?

    (1)
  2. খ)

    সরকারি ব্যয় কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার পরিমাপ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণিতে ব্যক্তির ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভোক্তা দৈনন্দিন জীবনে যেসব দ্রব্য ও সেবা ভোগ করে, নির্দিষ্ট সময়ে সেগুলোর গড় মূল্যস্তরের পরিবর্তন পরিমাপ করার জন্য যে সূচক সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, তাকে ভোক্তার দাম সূচক (Consumer Price Index বা CPI) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকার যখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অনুন্নয়নমূলক খাতে (যেমন—অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, ভর্তুকি ইত্যাদি) অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে, তখন সমাজে সামগ্রিক অর্থের জোগান বৃদ্ধি পায়। ফলে জনগণের হাতে তরল অর্থের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে দ্রব্যের সামগ্রিক জোগান চাহিদার তুলনায় দ্রুত না বাড়লে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যা মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' দেশের ২০১৯ সালের ভোক্তার দাম সূচক (ভিত্তি বছর, CPI0CPI_0) = ১২৫ এবং ২০২০ সালের ভোক্তার দাম সূচক (চলতি বছর, CPI1CPI_1) = ১৫০।

    মুদ্রাস্ফীতির হার (IRIR) পরিমাপের সূত্রটি হলো:
    IR=CPI1−CPI0CPI0×১০০IR = \frac{CPI_1 - CPI_0}{CPI_0} \times ১০০

    মান বসিয়ে পাই,
    IR=১৫০−১২৫১২৫×১০০IR = \frac{১৫০ - ১২৫}{১২৫} \times ১০০
    =২৫১২৫×১০০= \frac{২৫}{১২৫} \times ১০০
    =১৫×১০০= \frac{১}{৫} \times ১০০
    =২০%= ২০\%

    সুতরাং, 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ২০%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা ক্রমাগত দামস্তর বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়বে। নিম্নে এদের প্রভাব আলোচনা করা হলো:

    ১. উৎপাদক ও ব্যবসায়ী: মুদ্রাস্ফীতির সময় উৎপাদিত পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ে, কিন্তু উৎপাদন খরচ সেই তুলনায় ধীরে বাড়ে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তারা লাভবান হন।

    ২. কৃষক: কৃষকদের ক্ষেত্রে মিশ্র প্রভাব দেখা যায়। উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পাওয়ায় বড় ও উদ্বৃত্ত কৃষক লাভবান হলেও প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও ভোগ্যপণ্যের বাড়তি মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    ৩. সীমিত আয়ের জনগণ: চাকরিজীবী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকায় মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং প্রকৃত আয় হ্রাস পায়। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যায় এবং তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    ৪. ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা প্রকৃত মান কমে যায়। ফলে ঋণগ্রহীতা যে মূল্যের অর্থ নিয়েছিল, ঋণ পরিশোধের সময় কম প্রকৃত মূল্যের অর্থ ফেরত দেয়। এতে ঋণগ্রহীতা লাভবান হয় এবং ঋণদাতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি সমাজে আয় ও ধনবৈষম্য বৃদ্ধি করে উৎপাদক ও ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেয় এবং সীমিত আয়ের মানুষ ও ঋণদাতাদের ওপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন