বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস নিজেকে চেনার কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন সত্য প্রকাশের কথা-যত কঠিনই হোক সে সত্য। সক্রেটিস ও তাঁর অনুসারীরা সত্য প্রকাশে যে অসঙ্কোচ মুঢ়তা দেখিয়ে ছিলেন, প্রথাগত সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে তা চিহ্নিত হয়েছিলো। ঔদ্ধত্য ও বিশৃঙ্খলার নিয়ামক হিসেবে। পরিণামে তাদের উপর নেমে এসেছিলো রাজদন্ড। প্রবল পরাক্রমশালী রাজার ভয়ে না পালিয়ে যে অল্পসংখ্যক অনুসারী শেষ পর্যন্ত সক্রেটিসের অনুগামী হলেন, তাঁরাই ছিলেন প্রকৃত সত্যনিষ্ঠ। আর তাঁরা যেহেতু আত্মপ্রবঞ্চক ছিলেন না। তাই জেনেশুনেই বেছে নিয়েছিলেন রাজার দেয়া সত্য বলার শান্তি। শান্তিদাতা রাজাদের নাম-নিশানা মুছে গেলেও সক্রেটিসকে মহাকাল দিয়েছে "মহাজ্ঞানী' অভিধা।

  1. ক)

    নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর কী আসে?

    (1)
  2. খ)

    'একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব । - - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রকাশিত 'সত্য' 'আমার পথ' প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের যে মূলভাব, তারই বিস্তৃত পরিণতি 'আমার পথ- পরিলক্ষিত।”— মন্তব্যের সত্যাসত্য বিচার কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব' বলতে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে অন্ধভাবে অন্যের ওপর নির্ভর করার মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে।

    মানুষ যখন নিজের অন্তরের সত্য ও শক্তিকে অস্বীকার করে নিজেকে ছোট মনে করে এবং সম্পূর্ণভাবে পরের ওপর ভরসা করে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে, তখনই ঘটে তার আত্মার মৃত্যু। এই পরনির্ভরতা মানুষের স্বাধীন চিন্তাকে ধ্বংস করে দেয়। লেখক একেই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আত্মাবমাননা ও মানসিক দাসত্ব বলে আখ্যায়িত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রকাশিত 'সত্য' 'আমার পথ' প্রবন্ধে নির্ভীক আত্মোপলব্ধি, স্পষ্টবাদিতা ও ভণ্ডামিমুক্ত সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম অন্তরের সত্যকে চেনার এবং সেই সত্যকে সাহসের সাথে প্রকাশ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো প্রকার ভণ্ডামি বা লোকভয় না রেখে সত্যের পথে অটল থাকাই মানুষের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এতে সমাজের মানুষ যদি তাকে দাম্ভিক মনে করে, তবে সেই দাম্ভিকতা মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে বহুগুণে ভালো।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সক্রেটিস সত্য প্রকাশে আপসহীন ছিলেন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে তা উদ্ধত মনে হলেও তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। 'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুলের কণ্ঠেও সেই একই আপসহীন সুর ধ্বনিত হয়েছে—যেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সত্য প্রকাশকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং নিজের মধ্যকার সত্যের আলোকবর্তিকাকে কর্ণধার করে সকল মিথ্যা ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের যে মূলভাব, তারই বিস্তৃত পরিণতি 'আমার পথ' প্রবন্ধে পরিলক্ষিত।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও যথার্থ।

    উদ্দীপকের মূলভাব হলো সত্যের অন্বেষণ, আত্মোপলব্ধি এবং শত প্রতিকূলতা ও শাস্তির মুখেও সত্য প্রকাশের আপসহীন মনোভাব। সক্রেটিস প্রচলিত সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আত্মপ্রবঞ্চনাহীন থেকে সত্যের জন্য প্রাণ দিয়ে গেছেন, যা সত্যনিষ্ঠার সর্বোচ্চ রূপ।

    অন্যদিকে, 'আমার পথ' প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত সততা বা আত্মোপলব্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সত্যকে তিনি সার্বজনীন মানবমুক্তির হাতিয়ার হিসেবে রূপ দিয়েছেন। তিনি নিজের সত্যকে কর্ণধার মেনে সমাজ থেকে সকল মিথ্যা, ভণ্ডামি, পরাধীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটন করার ডাক দিয়েছেন। উদ্দীপকে সক্রেটিসের সত্যনিষ্ঠা ছিল স্বৈরাচারী রাজার শাসন ও প্রথাগত সমাজের বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ অবিচল আত্মত্যাগ। কিন্তু 'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল সেই আত্মউপলব্ধি ও সত্যকে রূপান্তরিত করেছেন সমষ্টিক বিপ্লবে—যেখানে সত্য মানুষকে পরনির্ভরতা ও ভণ্ডামি থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাবলম্বী ও নির্ভীক হতে শেখায় এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন গড়ে তোলে।

    সুতরাং, উদ্দীপকে ব্যক্তিক আত্মোপলব্ধি ও সত্যের যে দৃষ্টান্ত দেখানো হয়েছে, 'আমার পথ' প্রবন্ধে তার পরিধিকে বিস্তৃত করে সমাজ সংস্কার, দাসত্বমুক্তি ও মানবকল্যাণের মহতী শক্তিতে পরিণত করা হয়েছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন