বাংলা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
4.
একুশ বাঙালির অহংকার।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একুশ বাঙালির অহংকার
ভাব-সম্প্রসারণ:
মূলভাব:
একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবোধ এবং ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার অবিস্মরণীয় প্রতীক। একুশের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার চেতনার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল, যা সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য চিরন্তন অহংকারের বিষয়।
সম্প্রসারিত ভাব:
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক রক্তস্নাত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাধারণ জনতা রাজপথে নেমেছিল। পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। ভাষার জন্য এমন বীরত্বপূর্ণ আত্মদানের ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
একুশের এই রক্তদান বাঙালিকে তার স্বাধিকার ও আত্মপরিচয়ের প্রতি সচেতন করে তোলে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি একে একে চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করে। একুশ শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়, শোষণ ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়। বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাঙালি জাতিকে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
মন্তব্য:
একুশ আমাদের চেতনা, আমাদের প্রেরণা এবং আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয়ের ভিত্তিপ্রস্তর। রক্তমূল্যে কেনা এই ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের চেতনাকে বুকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করাই হোক প্রতিটি বাঙালির অঙ্গীকার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও