জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

আমাদের খাদ্যের অপাচ্য অংশ প্রবেশ করে মোটা নলাকার খাঁজযুক্ত একটি গঠনের মধ্যে। এই গঠন পৌষ্টিক নালীর অংশ হলেও পরিপাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা গৌণ।

  1. ক)

    সিকাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বৃহদন্ত্রকে ২য় মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নলাকার গঠনটির মানবজীবনে গুরুত্ব লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা সম্পর্কে মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইলিয়ামের শেষ প্রান্তের সাথে যুক্ত বৃহদন্ত্রের প্রথম থলে সদৃশ স্ফীত অন্ধ অংশটিকে সিকাম (Caecum) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমাদের বৃহদন্ত্র বা সামগ্রিক অন্ত্রে প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি নিউরন থাকে, যা এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র (Enteric Nervous System - ENS) গঠন করে। এই স্নায়ুতন্ত্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই অন্ত্রের কার্যকারিতা যেমন— পেরিস্টালসিস, এনজাইম ও শ্লেষ্মা ক্ষরণ এবং রক্তপ্রবাহ স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মস্তিষ্কের সাথে সরাসরি ভেগাস স্নায়ু দ্বারা যুক্ত থেকে এটি শরীরের মানসিক অবস্থা ও সংবেদনের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে বলে বৃহদন্ত্র তথা অন্ত্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে রূপক অর্থে মানবদেহের ‘২য় মস্তিষ্ক’ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পৌষ্টিক নালীর মোটা নলাকার খাঁজযুক্ত গঠনটি হলো মানব বৃহদন্ত্র। পরিপাকে এর প্রত্যক্ষ ভূমিকা গৌণ হলেও মানবজীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. পানি ও খনিজ লবণ শোষণ: বৃহদন্ত্রের কোলন খাদ্যের অপাচ্য তরল অংশের বেশিরভাগ পানি এবং প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ (যেমন সোডিয়াম ও ক্লোরাইড) শোষণ করে শরীরের জলীয় ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে।
    ২. মল গঠন ও নিষ্কাশন: অপাচ্য বর্জ্যকে মল হিসেবে রূপান্তর করে মলাশয়ে জমা রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা নিষ্কাশনে পায়ু ও কোলন সমন্বিত কাজ করে।
    ৩. উপকারী জীবাণুর আবাস ও ভিটামিন সংশ্লেষ: বৃহদন্ত্রে কোটি কোটি মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (যেমন ই. কোলাই) বাস করে, যা ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (B1, B2, B12) এবং ভিটামিন কে (K) সংশ্লেষ করে মানবদেহে সরবরাহ করে।
    ৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা ক্ষতিকর রোগসৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে।
    অতএব, মানবদেহে অভ্যন্তরীণ সমতা রক্ষা ও সুস্থ জীবনযাপনে বৃহদন্ত্রের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি হলো খাদ্য পরিপাক (Digestion)। পরিপাক নালীর বিভিন্ন অংশের রস ক্ষরণ, চলন এবং সামগ্রিক পরিপাক প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পরিপাকীয় হরমোন মুখ্য ভূমিকা পালন করে:
    ১. গ্যাস্ট্রিন (Gastrin): পাকস্থলীর পাইলোরিক অংশের জি-কোষ থেকে ক্ষরিত হয়ে এটি পাকস্থলীর প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং পেপসিনোজেন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
    ২. এন্টেরোগ্যাস্ট্রোন বা গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পলিপেপটাইড (GIP): পাকস্থলীর ক্ষরণ ও এর পেশির ক্রমসংকোচন (পেরিস্টালসিস) হ্রাস করে খাদ্য দীর্ঘক্ষণ ধারণে সাহায্য করে।
    ৩. সিক্রেটিন (Secretin): ডিওডেনাম থেকে ক্ষরিত হয়ে অগ্ন্যাশয়কে ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয় রস ও বাইকার্বনেট ক্ষরণে এবং যকৃৎকে পিত্তরস ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
    ৪. কোলেসিস্টোকাইনিন বা সিসেকে (CCK): পিত্তথলিকে সংকুচিত করে পিত্তরস ডিওডেনামে নিঃসরণ ঘটায় এবং অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম সমৃদ্ধ রস ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।
    ৫. এন্টেরোক্রাইনিন (Enterocrinin): ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হয়ে আন্ত্রিক গ্রন্থিকে সাক্কাস এন্টেরিকাস বা আন্ত্রিক রস ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে।
    ৬. অন্যান্য হরমোন: ডায়োক্রাইনিন ব্রুনার গ্রন্থির ক্ষরণ বৃদ্ধি করে এবং সোমাটোস্ট্যাটিন সামগ্রিক পরিপাকীয় হরমোনের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ ও অবদমিত করে।
    সুতরাং, হরমোনসমূহের সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সমন্বয় ব্যতিরেকে জটিল খাদ্য উপাদান সরল উপাদানে পরিণত হওয়া এবং তা পরিপাক হওয়া অসম্ভব। তাই পরিপাক প্রক্রিয়ায় হরমোনের ভূমিকা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন