অর্থনীতি ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
২০১৮ সালে 'ক' দেশে যে মূল্যস্তর ছিল, বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে সে দেশে মূল্যস্তর অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রি ও নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঋণের রেশনিং, বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন করে এবং নৈতিক প্ররোচনাও চালায়।
- ক)(1)
অনলাইন ব্যাংকিং কী?
- খ)(2)
মুদ্রার যোগান বলতে কি শুধু চাহিদা আমানতকেই নির্দেশ করে?
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিমাণগত ও গুণগত হাতিয়ারগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সিদ্ধান্ত মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে কীভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইন্টারনেট বা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যে কোনো স্থান থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ ও লেনদেন পরিচালনার প্রক্রিয়াকে অনলাইন ব্যাংকিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, মুদ্রার যোগান বলতে শুধু চাহিদা আমানতকে নির্দেশ করে না। মুদ্রার সংকীর্ণ ধারণায় নির্দিষ্ট সময়ে জনগণের হাতে থাকা কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা (চলতি মুদ্রা) এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা চাহিদা আমানতের সমষ্টিকে মুদ্রার যোগান বলা হয় (M = C + DD)। আবার ব্যাপক অর্থে এর সাথে মেয়াদি আমানতও (TD) যুক্ত হয়। সুতরাং, শুধু চাহিদা আমানত নয়, বরং জনগণের নিকট রক্ষিত নগদ মুদ্রা ও ব্যাংকের অন্যান্য আমানতও মুদ্রার যোগানের অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যবহৃত ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: পরিমাণগত ও গুণগত (বা নির্বাচনমূলক) হাতিয়ার।
১. পরিমাণগত হাতিয়ার: অর্থনীতির মোট ঋণের পরিমাণ সরাসরি নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে পরিমাণগত হাতিয়ার বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিমাণগত হাতিয়ারগুলো হলো:
- ব্যাংক হার বৃদ্ধি,
- খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রি এবং
- নগদ জমার হার বাড়ানো।
২. গুণগত (বা নির্বাচনমূলক) হাতিয়ার: নির্দিষ্ট কোনো খাতের ঋণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে গুণগত বা গুণবাচক হাতিয়ার বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত গুণগত হাতিয়ারগুলো হলো:
- ঋণের রেশনিং ব্যবস্থা,
- বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন এবং
- বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর নৈতিক প্ররোচনা চালানো।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশে করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট মূল্যস্তর বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। এর কার্যকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদের হার (ব্যাংক হার) বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয় এবং ঋণের পরিমাণ হ্রাস পায়।
২. খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে ঋণপত্র বিক্রি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনসাধারণের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলে চলে আসে। ফলে বাজারে নগদ অর্থের যোগান কমে যায়।
৩. নগদ জমার হার বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের বেশি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বাধ্য করা হলে তাদের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৪. গুণগত হাতিয়ারসমূহ: ঋণের রেশনিং, বন্ধকী ঋণের মার্জিন বৃদ্ধি এবং নৈতিক প্ররোচনার মাধ্যমে অনুৎপাদনশীল ও ফটকামূলক খাতে ঋণের প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে সীমিত করা যায়।
এসব পদক্ষেপের ফলে সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণসৃষ্টির ক্ষমতা কমে এবং বাজারে অর্থের যোগান সংকুচিত হয়। জনগণের হাতে অর্থ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। চাহিদা হ্রাসের কারণে দ্রব্যমূল্য কমে এবং অবশেষে মূল্যস্তর হ্রাস পেয়ে স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়। সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও