পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব হক সাহেব ছিলেন একজন বিখ্যাত মুসলিম রাজনীতিবিদ। দরিদ্র সর্বশ্রেণীর মানুষের মুক্তির জন্য তিনি রাজনীতি করতেন। তিনি তার ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক আভাস ভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার দলের বার্ষিক সম্মেলনে এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন। উক্ত প্রস্তাবের মাধ্যমেই একাধিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত ছিল।
- ক)(1)
ছয় দফা কে পেশ করেন?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব হক সাহেবের প্রস্তাবের সাথে পঠিত কোন প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে? উক্ত প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা পেশ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ও সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করাকে বোঝায়। এতে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ইত্যাদি অল্প কয়েকটি জাতীয় বিষয় ছাড়া স্থানীয় শাসন, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পূর্ণ ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব হক সাহেবের প্রস্তাবের সাথে আমাদের পঠিত ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' (১৯৪০)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সংলগ্ন এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে অঞ্চল হিসেবে গঠন করা।
২. ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে একত্রিত করে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা।
৩. এই স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
৪. সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষার জন্য সংবিধানে সুস্পষ্ট বিধান রাখা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সুস্পষ্টভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (States) গঠনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন পূর্ব বাংলা ও আসামকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্পষ্ট ধারণা এই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে জিন্নাহ ও মুসলিম লীগের কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে টাইপিং ভুলের অজুহাতে 'States' শব্দটির স্থলে একক 'State' (পাকিস্তান) গঠন করে এবং বাঙালিদের ন্যায্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করে নতুন উপনিবেশ গড়ে তোলে। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় লাহোর প্রস্তাবের 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' ধারণার প্রভাব অটুট ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছেষট্টির ছয় দফা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সুতরাং লাহোর প্রস্তাবেই বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর প্রোথিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও