উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব এনামুল ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে 'সান্তনা ডায়াগনস্টিক' নামে ৫ তলাবিশিষ্ট একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার তৈরি করেন। তিনি তার সেন্টারে ১ কোটি টাকার রোগনির্ণয় যন্ত্রপাতি কেনেন। কর্মকর্তা, নার্স এবং টেকনিশিয়ান হিসেবে ২৫ জন ব্যক্তি নিয়োগ দেন। রোগীর চাহিদা বাড়ায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। জনাব এনামুলের ধারণা রোগী বাড়লে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফিস কমাতে পারবেন।
- ক)(1)
উৎপাদন মাত্রা কী?
- খ)(2)
"কাম্য উৎপাদন মাত্রায় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জিত হয়" -ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব এনামুলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি কোন মাত্রার প্রতিষ্ঠান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জনাব এনামুলের রোগী বাড়লে নিরীক্ষা ফিস কমানোর চিন্তা-ভাবনা কি যুক্তিসঙ্গত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদিত পণ্য বা সেবার মোট পরিমাণকে উৎপাদন মাত্রা (Scale of Production) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাম্য উৎপাদন মাত্রা হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে প্রতি একক উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয় এবং সামগ্রিক বিক্রয়লব্ধ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান সর্বাধিক হয়।
এই মাত্রায় প্রতিষ্ঠানের স্থির ব্যয় বা সংস্থাপন ব্যয় সর্বাধিক দক্ষতার সাথে ব্যবহৃত হয় এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যয়সংকোচনের পূর্ণ সুবিধা লাভ করা যায়। ফলে উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব এনামুলের 'সান্তনা ডায়াগনস্টিক' সেন্টারটি সেবামূলক শিল্পের আওতাভুক্ত একটি 'মাঝারি' মাত্রার প্রতিষ্ঠান।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে কিংবা যেখানে ৫০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে মাঝারি শিল্প বলে। তবে ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে এই সীমা জমি ও ভবন বাদে ৫০ লক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ২৫ থেকে ৫০ জন হলেও, বিনিয়োগ এবং সেবার প্রকৃতি বিবেচনায় এটি ক্ষুদ্র বা মাঝারি স্তরের মধ্যে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব এনামুল রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি বাবদ ১ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন (যা জমি ও ভবন বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা বাদে স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ) এবং কর্মকর্তা, নার্স ও টেকনিশিয়ান হিসেবে ২৫ জন নিয়োজিত রয়েছেন। বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকার অধিক (১ কোটি টাকা) এবং শ্রমিক সংখ্যা ২৫ জন হওয়ায় বাংলাদেশ শিল্পনীতি অনুযায়ী এটি মাঝারি শিল্প/প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব এনামুলের রোগী বাড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফিস কমানোর চিন্তা-ভাবনাটি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত। নিম্নে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
বৃহদায়তন বা বর্ধিত সেবা কার্যক্রমে 'ক্রমহ্রাসমান ব্যয় বিধি' বা 'বৃহদায়তন উৎপাদনের ব্যয়সংকোচ সুবিধা' (Economies of Scale) কার্যকর হয়। প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্থির খরচ (যেমন- ভবনের খরচ, মূল্যবান যন্ত্রপাতির অবচয়, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে, যা সেবার পরিমাণ বাড়লেও বৃদ্ধি পায় না।
জনাব এনামুলের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যন্ত্রপাতি ও ভবনে বড় অঙ্কের স্থির বিনিয়োগ রয়েছে। রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এই স্থির ব্যয় বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যে বণ্টিত হয়ে যায়। ফলে প্রতি একক বা রোগীপ্রতি গড় স্থির ব্যয় হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক গড় সেবা প্রদান ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।
যেহেতু সেবা প্রদানের গড় ব্যয় হ্রাস পায়, তাই তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফিস বা মূল্য হ্রাস করেও প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। এতে সেবার মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মুনাফাকে বৃদ্ধি করবে। অতএব, অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত দৃষ্টিকোণ থেকে জনাব এনামুলের এই ভাবনাটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও