বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মজলিশপুর গ্রামের তাহের আলি হঠাৎ দাবি করে যে সে স্বপ্নে এক লতা-পাতার ঔষধের সন্ধান পেয়েছে যা দ্বারা যে-কোনো রোগের চিকিৎসা সম্ভব। তার এ লতা-পাতার চিকিৎসার কথা চারিদিকে প্রচার হতে থাকে। অচিরেই আশেপাশের গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দলে দলে তাঁর কাছে আসতে থাকে। লতা-পাতার ঔষধ বিক্রির টাকায় এক সময়ের হতদরিদ্র তাহের আলির আর্থিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হতে থাকে।
- ক)(1)
'লালসালু' উপন্যাসটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
মজিদ আওয়ালপুরের পিরের বিরোধিতা করে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তাহের আলির সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"স্বার্থপরতা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে মানুষ অনেক সময় নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়।"-উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসটি প্রথম ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বার্থহানি ও মহব্বতনগর গ্রামে নিজের আধিপত্য হারানোর চরম আশঙ্কায় মজিদ আওয়ালপুরের পিরের বিরোধিতা করে।
মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ মজিদের অলৌকিক ক্ষমতা ও মাজারের আধিপত্যে আস্থাশীল ছিল। কিন্তু আওয়ালপুরে এক নতুন পিরের আগমনে মহব্বতনগরের মানুষও তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সেখানে ছুটতে থাকে। এতে মজিদ তার একচ্ছত্র ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আর্থিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখে আওয়ালপুরের পিরকে ভুয়ো ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা শুরু করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তাহের আলির সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের প্রতারণা ও অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে ভাগ্যোন্নয়নের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, নিঃস্ব ও হতদরিদ্র মজিদ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং জীবিকার তাগিদে ধর্মভীরু মহব্বতনগর গ্রামে একটি অজ্ঞাত পুরোনো কবরকে 'মোদাচ্ছের পিরের মাজার' বলে প্রচার করে। সে মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও ভয়কে পুঁজি করে প্রভাব বিস্তার করে এবং দ্রুত বিত্তশালী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের তাহের আলিও একসময় হতদরিদ্র ছিল। কিন্তু সে স্বপ্নে লতা-পাতার সর্বরোগহর ওষুধের সন্ধান পাওয়ার বানোয়াট দাবি করে সরল মানুষদের প্রতারিত করে। এর মাধ্যমে সে দ্রুত আর্থিক উন্নতি লাভ করে। এভাবে মানুষের অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে ব্যবহার করে মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে দরিদ্র অবস্থা থেকে দ্রুত সম্পদশালী হওয়ার কৌশলের দিক থেকে তাহের আলি ও মজিদ চরিত্র পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"স্বার্থপরতা ও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে মানুষ অনেক সময় নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দেয়।"—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
বেঁচে থাকার মৌলিক তাড়না এবং পার্থিব সমৃদ্ধি অর্জনের তীব্র মোহ মানুষকে অনেক সময় অসততার পথে পরিচালিত করে। তখন নীতি-নৈতিকতা বা সত্যনিষ্ঠার চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিষয়টিই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ শস্যহীন এলাকা থেকে পেটের দায়ে মহব্বতনগরে এসে মিথ্যা মাজারের আশ্রয় নেয়। নিজের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে সে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, ভণ্ডামি ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করেছে। এমনকি নিজের স্বার্থে সে অন্যের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতেও দ্বিধা করেনি। অন্যদিকে, উদ্দীপকের তাহের আলিও তার চরম দারিদ্র্য ঘোচাতে ও বৈষয়িক উন্নতি সাধনে লতা-পাতার অলৌকিক ওষুধের ভুয়া গল্প ফেঁদে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে।
উভয় চরিত্রেই দেখা যায়, অস্তিত্বের সংকট এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা বিবেক ও নৈতিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভণ্ডামির পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, আলোচ্য মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও