যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
সৈয়দবাড়ি গ্রামে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন লোকজন আক্রান্ত হচ্ছেন। গ্রামের বৃদ্ধা মহিলা কিরণবালা বললেন- শীতলা দেবী অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে। দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ছাগল বলি দিতে হবে। একথা শুনে শিক্ষিত যুবক বিজয় বলল- 'কলেরা জীবাণু ছড়িয়ে পড়ায়-এ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। সচেতনতার সাথে উপযুক্ত পরিচর্যা ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে কলেরা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব'।
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দু'টো সীমাবদ্ধতা লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কিরণবালার বক্তব্যে কোন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে কিরণবালা ও বিজয়ের বক্তব্যের পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করাকে ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার দু'টো সীমাবদ্ধতা হলো:
১. পরম নিয়ম বা প্রকৃতির সর্বোচ্চ নিয়মসমূহের (যেমন—কার্যকারণ নিয়ম বা প্রকৃতির একরূপতা নীতি) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
২. মনের মৌলিক অনুভূতি বা প্রত্যক্ষ চেতনা (যেমন—সুখ, দুঃখ, বেদনা ইত্যাদি)-র অন্তর্নিহিত স্বরূপের সরাসরি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কিরণবালার বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা'র প্রতিফলন ঘটেছে।
যে ব্যাখ্যায় কোনো প্রাকৃতিক বা বাস্তব কারণ অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক শক্তি বা অন্ধবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে কোনো ঘটনার কারণ নির্দেশ করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কিরণবালা একে শীতলা দেবীর অসন্তুষ্টি বলে মনে করেন এবং দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ছাগল বলি দেওয়ার বিধান দেন। এর পেছনে কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকারণ সম্পর্ক বা যুক্তি নেই; বরং এটি কুসংস্কার ও কাল্পনিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, কিরণবালার বক্তব্য লৌকিক ব্যাখ্যার সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কিরণবালার বক্তব্যে লৌকিক ব্যাখ্যা এবং বিজয়ের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভিত্তিগত পার্থক্য: কিরণবালার ব্যাখ্যা ব্যক্তিগত অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, বিজয়ের ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও জীবাণুঘটিত বৈজ্ঞানিক সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রকৃত প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান করা হয় (বিজয় কলেরার জন্য কলেরা জীবাণুকে দায়ী করেছে)। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ সম্বন্ধ ছাড়াই কাল্পনিক ও অলৌকিক শক্তির ওপর নির্ভর করা হয় (কিরণবালা দেবীর অসন্তুষ্টিকে কারণ ধরেছেন)।
৩. যাচাইযোগ্যতা ও প্রতিকার: বিজয়ের প্রস্তাবিত সমাধান (চিকিৎসা ও সচেতনতা) সার্বজনীনভাবে পরীক্ষিত এবং প্রয়োগযোগ্য। অন্যদিকে কিরণবালার প্রস্তাবিত সমাধান (ছাগল বলি) যুক্তিহীন এবং বাস্তব প্রতিকারে অক্ষম।
৪. সার্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সব সময় সার্বজনীন ও বস্তুনিষ্ঠ; লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় ও কাল্পনিক।
অতএব, কিরণবালা ও বিজয়ের বক্তব্য যথাক্রমে অবৈজ্ঞানিক-লৌকিক এবং বিজ্ঞানসম্মত-বাস্তবধর্মী ব্যাখ্যার সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও