ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রসুল ও তার তিন বন্ধু মিলে ঢাকার গাজীপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানা গড়ে তুলবে এই মর্মে চিন্তা-ভাবনা করলেন। এজন্য তারা কোম্পানি গঠনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে নিবন্ধকের নিকট জমা দিলেন। নিবন্ধক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে সন্তুষ্ট হয়ে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র প্রদান করে। নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর তারা ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে তারা কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি করতে চায় কিন্তু তাদের কোম্পানির শেয়ার বাজারে বিক্রয় করতে পারছেনা।
- ক)(1)
স্মারকলিপি কী?
- খ)(2)
হোল্ডিং কোম্পানি কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রসুল ও তার বন্ধুরা কোন ধরনের কোম্পানি গঠন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কোম্পানিটির শেয়ার বাজারে বিক্রয় করতে করণীয় সম্পর্কে উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ হলো কোম্পানির মূল সনদ বা সংবিধান, যাতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, দায়, মূলধন ইত্যাদি মূল বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে কোম্পানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোনো কোম্পানির শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোটদান ক্ষমতার অধিকারী বা শেয়ারের মালিকানা ধারণ করে অথবা অধিকাংশ পরিচালক নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হোল্ডিং কোম্পানি বলে।
হোল্ডিং কোম্পানি অন্য কোম্পানিটির (সাবসিডিয়ারি কোম্পানি) নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এতে কোম্পানিগুলোর পৃথক আইনগত সত্তা বজায় থাকে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে হোল্ডিং কোম্পানির হাতে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রসুল ও তার বন্ধুরা একটি 'প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি' গঠন করেছেন।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ থাকে, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং যা জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের আহ্বান জানাতে পারে না, তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। এই জাতীয় কোম্পানি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরপরই সরাসরি ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে, এর জন্য কার্যারম্ভের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
উদ্দীপকে জনাব রসুল ও তার তিন বন্ধু (মোট ৪ জন) মিলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। তারা নিবন্ধকের নিকট থেকে নিবন্ধনপত্র পাওয়ার সাথে সাথেই কার্যারম্ভের অনুমতিপত্রের অপেক্ষা না করেই ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু করেন। উপরন্তু, বর্তমানে তারা মূলধন বাড়াতে চাইলেও বাজারে শেয়ার বিক্রয় করতে পারছেন না। এসব বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করে যে, তাদের গঠিত কোম্পানিটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানিটির শেয়ার বাজারে বিক্রয় করতে হলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিটিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় 'পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে' রূপান্তর করতে হবে।
কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রয়ের আহ্বান জানাতে পারে না। বাজারে শেয়ার বিক্রয় করতে হলে কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হতে হয় এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত (Listing) হতে হয়। এর জন্য সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, বিশেষ প্রস্তাব পাস এবং প্রয়োজনীয় আইনগত শর্তাবলি পালন করা আবশ্যক।
উদ্দীপকে বর্ণিত রসুল ও তার বন্ধুদের কোম্পানিটি নিবন্ধনপত্র নিয়ে শুরু হলেও বাজারে শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না, কারণ এটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। শেয়ার বাজারে শেয়ার বিক্রয় করতে হলে তাদের নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
১. সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ৭ জনে এবং পরিচালকের সংখ্যা কমপক্ষে ৩ জনে উন্নীত করতে হবে।
২. শেয়ারহোল্ডারদের বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে কোম্পানির সংঘবিধি ও স্মারকলিপি সংশোধনের বিশেষ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।
৩. সংঘবিধি থেকে শেয়ার হস্তান্তরের বিধিনিষেধ এবং জনসাধারণের নিকট শেয়ার ক্রয়ের আহ্বানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিবন্ধকের নিকট থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির স্বীকৃতি গ্রহণ করতে হবে।
৫. শেয়ার ইস্যুর জন্য বিবরণপত্র (Prospectus) প্রচার করতে হবে এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার (BSEC) অনুমোদন নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে হবে।অতএব, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোম্পানিটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করলেই তারা বাজারে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও