বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

ঘটনা-১: 'ক' নামক একজন ব্যক্তি সোনারগাঁ ঘুরতে গিয়ে জানতে পারে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে এখানকার এক শাসনকর্তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর এক কর্মচারী তখন সিংহাসনে বসেন। এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন একটি যুগের।ঘটনা-২: শাসক হিসেবে জনাব 'খ' এর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল সবখানে।তিনি তার রাজ্যকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে সচেষ্ট ছিলেন। ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার কথা চিন্তা করে তিনি রাজধানীকে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে স্থানান্তর করেন। তিনি রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য অশ্বারোহী বাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।

  1. ক)

    সুবা কী?

    (1)
  2. খ)

    বারোভূঁইয়া বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-১ এ বর্ণিত শাসক মধ্যযুগে কীভাবে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঘটনা-২ এ বর্ণিত 'খ' শাসক ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সুবা হলো মুঘল আমলে সাম্রাজ্যের প্রাদেশিক প্রশাসনিক একক বা প্রদেশ।

  2. খ)

    মুঘল আমলে বাংলায় যে সকল স্থানীয় জমিদার বা ভূস্বামী স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীনভাবে নিজ নিজ অঞ্চল শাসন করতেন এবং মুঘল আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের বারোভূঁইয়া বলা হয়। ঈসা খান ছিলেন তাঁদের নেতা। এখানে ‘বারো’ সংখ্যাটি শুধু বারো জন নয়, অনেক সংখ্যার ইঙ্গিত দেয়।

  3. গ)

    ঘটনা-১-এ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসা কর্মচারী হলেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। তিনিই বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।

    সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তাঁর সিলাহদার (অস্ত্রবাহক) ফখরুদ্দীন ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তখন দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ছিল। এ সুযোগে তিনি নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়।

  4. ঘ)

    ঘটনা-২-এ বর্ণিত শাসক শক্তিশালী রাজ্য গঠন, বাণিজ্যিক সুবিধা ও সেনাবাহিনী সংগঠনে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শিল্প ও সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বলে আমি মনে করি।

    ১. স্থিতিশীল শাসন: শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ রাজ্যে শিল্প-সাহিত্যের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলার সুলতানি শাসকরা এমন পরিবেশ দিয়েছিলেন।
    ২. সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা: সুলতানি আমলে সুলতানদের উৎসাহে বাংলা সাহিত্য বিকশিত হয়। সুলতানরা অনুবাদ ও কাব্যরচনায় কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
    ৩. স্থাপত্য ও শিল্প: সুলতানরা মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থাপত্য নির্মাণ করেন, যা শিল্পরুচির পরিচয় দেয়।

    সুতরাং, সুলতানি আমলের শাসক হিসেবে ‘খ’ শিল্প ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন—এটি যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন