ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
কেতুপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যান একজন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসক ছিলেন। 'সেখানে কোনো ব্যক্তি অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তিনি তার জমিজমা নিজের নামে করে নিতেন। কোনো রকম দত্তকপুত্রের অধিকার স্বীকার করতেন না। একজন সাম্রাজ্যবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন আধুনিক চিন্তাধারা সম্পন্ন। কাজেই তিনি সমাজ, শাসন, যোগাযোগ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার সাধন করেন। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার।
- ক)(1)
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ কোন সেনানিবাসে প্রথম শুরু হয়?
- খ)(2)
'বয়কট আন্দোলন' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চেয়ারম্যানের সম্পত্তি দখলের নীতির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মত উক্ত শাসক তার বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করেন।- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ প্রথম শুরু হয় ব্যারাকপুর সেনানিবাসে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বয়কট আন্দোলন' বলতে সাধারণত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ পণ্যের বর্জন আন্দোলনকে বোঝায়। এটি ছিল ব্রিটিশদের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে এবং বঙ্গভঙ্গ রদের দাবিতে গড়ে ওঠা একটি অহিংস ও অর্থনৈতিক প্রতিরোধ আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিলাতি পণ্য বর্জন করে ব্রিটিশদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিপরীতে দেশি পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কেতুপুর অঞ্চলের চেয়ারম্যানের সম্পত্তি দখলের নীতির সাথে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse)-র মিল রয়েছে।
লর্ড ডালহৌসি ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন। এ নীতি অনুসারে কোনো দেশীয় রাজ্যের শাসক অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তিনি দত্তকপুত্র গ্রহণ করতে পারতেন না এবং সেই রাজ্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হতো। উদ্দীপকের চেয়ারম্যানও কোনো ব্যক্তি অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে দত্তকপুত্রের অধিকার অস্বীকার করে তার জমিজমা নিজের নামে করে নিতেন। সুতরাং, চেয়ারম্যানের এই আচরণ লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতিরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো লর্ড ডালহৌসিও একাধারে সাম্রাজ্যবাদী শাসক এবং আধুনিক সংস্কারক ছিলেন, যার কাজের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে—উক্তিটি যথার্থ।
লর্ড ডালহৌসি ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারে কঠোর নীতি প্রয়োগ করলেও উপমহাদেশে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি ভারতে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন করে ১৮৫৩ সালে রেলপথ চালু করেন এবং টেলিগ্রাফ ও আধুনিক ডাক ব্যবস্থার সূচনা করেন। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগ (PWD) প্রতিষ্ঠা করে রাস্তাঘাট, সেতু ও সেচ খালের উন্নয়ন করেন। সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচ বাস্তবায়নে সহায়তা করেন, যার ভিত্তিতে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এছাড়া তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন পাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, ডালহৌসির সাম্রাজ্যবাদী নীতি চরম সমালোচিত হলেও তাঁর আধুনিক যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কার ভারতীয় উপমহাদেশকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও