‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ • ভিকারুননিসা নূন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'C' ও 'D' উভয় রাষ্ট্রেই প্রদেশ রয়েছে। 'C' রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর কোন সাংবিধানিক স্বাধীনতা নেই। কিন্তু 'D' রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক স্বাধীনতা রয়েছে।

  1. ক)

    মানবাধিকারের রক্ষক কে?

    (1)
  2. খ)

    সমাজতান্ত্রিক সরকারের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখ।

    (2)
  3. গ)

    C' ও 'D' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    'D' রাষ্ট্রের সরকারের সফলতার শর্তাবলি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘ (United Nations) হলো মানবাধিকারের সর্বজনীন রক্ষক। (এছাড়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাধীন বিচার বিভাগ মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে কাজ করে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজতান্ত্রিক সরকারের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. উৎপাদনের উপায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানা: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কলকারখানা, জমি এবং উৎপাদনের যাবতীয় উপাদানে ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
    ২. পরিকল্পিত অর্থনীতি ও শ্রেণিহীন সমাজ গঠন: এ ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা দ্বারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় এবং শোষণমুক্ত শ্রেণিহীন সমাজ গঠন করা এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'C' রাষ্ট্র হলো এককেন্দ্রীক সরকারব্যবস্থা এবং 'D' রাষ্ট্র হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা। কারণ 'C' রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা নেই, পক্ষান্তরে 'D' রাষ্ট্রের প্রদেশগুলো সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন বা স্বায়ত্তশাসিত।

    এককেন্দ্রীক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের মধ্যকার পার্থক্যগুলো হলো:
    ১. ক্ষমতার বণ্টন: এককেন্দ্রীক ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে সব ক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং প্রশাসনিক সুবিধার্থে গঠিত প্রদেশগুলো কেন্দ্রের অধীনস্থ থাকে। পক্ষান্তরে, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমেই কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে বণ্টন করা হয়।
    ২. সংবিধানের প্রকৃতি: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংবিধানকে অবশ্যই লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় হতে হয়, যাতে কেন্দ্র বা প্রদেশ কেউই এককভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন করতে না পারে। এককেন্দ্রীক ব্যবস্থায় সংবিধান লিখিত বা অলিখিত এবং সুপরিবর্তনীয় বা দুষ্পরিবর্তনীয় যেকোনোটি হতে পারে।
    ৩. দ্বৈত ব্যবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার—উভয়েরই স্ব-স্ব এক্তিয়ারে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা থাকে, যাকে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বলে। কিন্তু এককেন্দ্রীক রাষ্ট্রে প্রদেশগুলো কেবল কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, তাদের নিজস্ব কোনো সাংবিধানিক স্বাধীনতা থাকে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'D' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা সফলভাবে পরিচালনার জন্য অপরিহার্য শর্তাবলি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সফলতার প্রধান শর্ত হলো একটি সুস্পষ্ট, লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এটি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বণ্টন নিশ্চিত করে এবং বিরোধের সুযোগ কমায়।
    ২. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত: কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বা একাধিক প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তার সমাধান ও সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য একটি নিরপেক্ষ ও সর্বোচ্চ বিচারালয় থাকা আবশ্যক।
    ৩. জাতীয় ঐক্য ও প্রাদেশিক স্বাতন্ত্র্যের সমন্বয়: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা তখনই সফল হয়, যখন জনগণের মধ্যে 'আমরা এক' এই জাতীয় চেতনা বজায় থাকে, আবার প্রদেশগুলোর আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্য ও সংস্কৃতিও সুরক্ষিত থাকে। ডাইসির মতে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সফলতার মূল শর্ত হলো 'ঐক্য চাওয়া কিন্তু একীভূত হওয়া না চাওয়া'।
    ৪. ক্ষমতার ভারসাম্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা: কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সংহতি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
    ৫. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় আইনসভার দ্বিতীয় কক্ষটি প্রদেশগুলোর সম-মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার কাজ করে।

    অতএব, উল্লেখিত উপাদানগুলোর সক্রিয় উপস্থিতিই একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারকে ফলপ্রসূ ও সফল করতে সহায়তা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন