যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

মাহমুদ ইদানিং পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী মারিয়ার সাথে ঝগড়া করে পৃথকভাবে বসবাস করছে। মাহমুদের চাচা পেয়ার সাহেব বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মাহমুদের সাথে ও পরে মারিয়ার সাথে পৃথকভাবে আলোচনায় বসেন। পেয়ার সাহেব তাদের দুজনকে বোঝাতে সক্ষম হন। এতে ঝগড়া-বিবাদের অবসান হয়। অতঃপর মাহমুদ ও মারিয়া এ একত্রে বসবাস করতে লাগল ।

  1. ক)

    সহানুমান কী?

    (1)
  2. খ)

    সহানুমানের যে কোনো একটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পেয়ার সাহেবের ভূমিকা সহানুমানের কোন পদের সাথে তুলনাযোগ্য? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'মাহমুদ', 'মারিয়া' ও 'পেয়ার সাহেব'-এর তুলনাযোগ্য পদের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কিত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে সহানুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সহানুমানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এর সিদ্ধান্ত কখনোই আশ্রয়বাক্য দুটি থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। যেহেতু সহানুমান একটি অবরোহ অনুমান প্রক্রিয়া, তাই এর সিদ্ধান্ত হয় আশ্রয়বাক্যের সমান ব্যাপক হবে অথবা আশ্রয়বাক্য অপেক্ষা কম ব্যাপক হবে; কোনো অবস্থাতেই সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা আশ্রয়বাক্যের ব্যাপকতাকে অতিক্রম করতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের পেয়ার সাহেবের ভূমিকা সহানুমানের মধ্যপদ বা হেতুপদের (Middle Term) সাথে তুলনাযোগ্য।

    সহানুমানের মধ্যপদ বা হেতুপদ হলো সেই পদ, যা উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে উপস্থিত থাকে না; এটি প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মাহমুদ ও তার স্ত্রী মারিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিবাদ তৈরি হলে পেয়ার সাহেব পৃথকভাবে উভয়ের সাথে কথা বলে তাদের মধ্যকার বিবাদের অবসান ঘটান এবং পুনরায় তাদের একত্রিত করেন। সহানুমানের মধ্যপদও ঠিক একইভাবে দুটি ভিন্ন পদের (প্রধান পদ ও অপ্রধান পদ) সাথে পৃথকভাবে সম্পর্কযুক্ত হয়ে তাদের একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে বা সম্পর্কে আবদ্ধ করে। সুতরাং পেয়ার সাহেবের ভূমিকা সহানুমানের মধ্যপদের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'মাহমুদ', 'মারিয়া' এবং 'পেয়ার সাহেব' সহানুমানের যথাক্রমে অপ্রধান পদ (Minor Term), প্রধান পদ (Major Term) এবং মধ্যপদ (Middle Term)-এর সাথে তুলনীয়। নিম্নে এদের পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মধ্যপদের ভূমিকা ও সংযোগ স্থাপন:
    সহানুমানের তিনটি পদের মধ্যে মধ্যপদ বা হেতুপদ (উদ্দীপকে পেয়ার সাহেব) হলো প্রধান সেতুস্বরূপ। সহানুমানের কাঠামোয় প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রাথমিক সম্পর্ক থাকে না। মধ্যপদ প্রথমে প্রধান পদের সাথে এবং পরে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়, যেভাবে পেয়ার সাহেব প্রথমে মাহমুদের সাথে ও পরে মারিয়ার সাথে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন।

    ২. আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তে রূপান্তর:
    প্রধান পদ ও মধ্যপদের সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রধান আশ্রয়বাক্য এবং অপ্রধান পদ ও মধ্যপদের সমন্বয়ে গঠিত হয় অপ্রধান আশ্রয়বাক্য। মধ্যপদের মধ্যস্থতায় এই দুই পদের সংযোগ ঘটার পর সিদ্ধান্তে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে এক অনিবার্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। উদ্দীপকেও পেয়ার সাহেবের মধ্যস্থতার ফলেই মাহমুদ ও মারিয়ার মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয় এবং তারা একত্রে বসবাস শুরু করে।

    ৩. মধ্যপদের অনুপস্থিতি:
    সহানুমানের অন্যতম মৌলিক নিয়ম হলো মধ্যপদ কখনোই সিদ্ধান্তে থাকে না। উদ্দীপকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, চূড়ান্ত পরিণামে মাহমুদ ও মারিয়া একত্রে বসবাস করতে শুরু করেছে, যেখানে পেয়ার সাহেব সরাসরি দাম্পত্য সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত নন; তার কাজ কেবল মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেওয়া।

    অতএব, সহানুমানের এই তিনটি পদের আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং এদের যথাযথ সমন্বয় ছাড়া কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন