উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
ছাতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আলতাফ সাহেবের নাম অনুসারে ছাতার নামকরণ করা হয় ‘আলতাফ ছাতা’। ‘আলতাফ ছাতা’ গুণে মানে সবার নিকট পরিচিত। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্ষাকালে এর চাহিদা বেড়ে যায় অনেক গুণ। প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষাকালে এর মূল্য ৩০ টাকা বেশি নিয়ে থাকে। ফলে মোট বিক্রয়ের উপর ২০ শতাংশ মুনাফা অর্জিত হয়।
- ক)(1)
অযাচিত পণ্য কী?
- খ)(2)
‘পণ্য উন্নয়ন স্তরে’ বিনিয়োগ ব্যয় বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
‘আলতাফ ছাতা’ কর্তৃক উৎপাদিত পণ্য কোন ধরনের পণ্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘আলতাফ ছাতা’ কর্তৃক গৃহীত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির সঠিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য সম্পর্কে ক্রেতা অবগত নয় বা অবগত হলেও সাধারণত ক্রয়ের কথা চিন্তা করে না, সেগুলোকে অযাচিত পণ্য (Unsought Goods) বলে। যেমন- জীবন বীমা পলিসি, এনসাইক্লোপিডিয়া ইত্যাদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নতুন পণ্য উন্নয়নের প্রাথমিক স্তরে পণ্যটি বাজারে বিক্রির উপযোগী করার জন্য গবেষণা ও ডিজাইনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়, অথচ এ সময় কোনো ধরনের বিক্রয় বা আয় অর্জিত হয় না। ধারণা সৃষ্টি, ধারণা বাছাই, পণ্যের রূপদান এবং পরীক্ষামূলক বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞদের পারিশ্রমিক ও প্রযুক্তির পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় বলেই এই স্তরে বিনিয়োগ ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আলতাফ ছাতা’ কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যটি হলো ভোগ্যপণ্যের অন্তর্গত 'সুবিধাজনক পণ্য' (Convenience Goods) বা ব্যবহারের ধরন বিবেচনায় 'জরুরি বা মৌসুমী পণ্য'।
যেসব পণ্য ভোক্তারা তাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ক্রয় করে, সেগুলোকে ভোগ্যপণ্য বলে। সুবিধাজনক পণ্য হলো এমন পণ্য, যা ভোক্তারা নিয়মিত বা বিশেষ প্রয়োজনে খুব অল্প প্রচেষ্টায় সহজে ও দ্রুত ক্রয় করে থাকেন।
উদ্দীপকের 'আলতাফ ছাতা' রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি ব্যবহার করেন। তাছাড়া এর চাহিদা বর্ষাকালে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এটি একটি ব্যবহারিক ভোগ্যপণ্য এবং জরুরি সুবিধাজনক পণ্য, যা সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আলতাফ ছাতা’ কর্তৃক গৃহীত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিটি হলো 'চাহিদাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ' (Demand-based Pricing) বা 'মৌসুমী মূল্য নির্ধারণ কৌশল'। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এ কৌশলটি সাময়িকভাবে লাভজনক হলেও সামগ্রিক বিবেচনায় কিছুটা অনৈতিক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষাকালে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নিয়ে পণ্যের মূল্য প্রতিটিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে মোট বিক্রয়ের ওপর ২০% মুনাফা অর্জন করে। চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে মূল্য কমানো বা বাড়ানোকে চাহিদাভিত্তিক বা সময়ভিত্তিক বৈষম্যমূলক মূল্য নির্ধারণ বলা হয়।
মূল্যায়ন: ব্যবসায়ের মুনাফা অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে উচ্চ চাহিদার মৌসুমে মূল্য বৃদ্ধি করে অধিক মুনাফা করা একটি সাধারণ কৌশল। তবে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ষার মতো প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ছাতার মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যের চাপ সৃষ্টি করা প্রতিষ্ঠানটির সুনামের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সুনাম ও গ্রাহকের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে ন্যায্যমূল্য বজায় রেখে বিক্রয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট মুনাফা বৃদ্ধি করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও সঠিক কৌশল হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও