অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আবদুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড়। তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় মেলবোর্নের একটি শপিং মলে পোশাক কিনতে গিয়ে দেখেন যে সেখানে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত পোশাকই সব থেকে বেশি আকর্ষণীয় এবং দামে সস্তা। এছাড়াও তিনি পুরো শপিংমলে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের পণ্য দেখতে পান। তিনি খুব খুশি হন এবং মনে মনে ভাবেন বাংলাদেশ শুধু বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে না রপ্তানিও করে।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য অপ্রচলিত শিল্পজাত পণ্যগুলো কী কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি বাণিজ্যের কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্য রপ্তানির বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে কর? ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে বিভিন্ন অঞ্চল বা ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যে দ্রব্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্পজাত পণ্য অতীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি হতো না, কিন্তু বর্তমানে নতুনভাবে রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত শিল্পজাত পণ্য বলে। যেমন: তৈরি পোশাক (ওভেন ও নিটওয়্যার), ওষুধ বা ভেষজ সামগ্রী, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, সিরামিক সামগ্রী, প্লাস্টিক ও মেলামাইন দ্রব্য, চামড়াজাত পণ্য এবং জাহাজ বা নৌযান ইত্যাদি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি বাণিজ্যের 'আন্তর্জাতিক বাণিজ্য' বা 'বৈদেশিক বাণিজ্য'-এর রপ্তানি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।
যখন দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট আইনকানুন ও নীতিমালার ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান ঘটে, তখন তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। এর দুটি প্রধান দিক হলো আমদানি এবং রপ্তানি। নিজের দেশের সীমানা অতিক্রম করে উৎপাদিত পণ্য অন্য দেশে বিক্রয় করাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ক্রিকেটার আবদুর রহমান অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে মেলবোর্নের শপিং মলে বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত পোশাক এবং বিভিন্ন সামগ্রী দেখতে পান। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য প্রস্তুত করে বাণিজ্যিকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রয় বা রপ্তানি করা হয়েছে। ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে বিশ্বের অপর একটি দেশে পণ্যের এই বাণিজ্যিক বাজার সৃষ্টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। নিচে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও শিল্পজাত পণ্যের কারখানাগুলোতে লাখ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি: পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হয়।
৪. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস ও ভারসাম্য রক্ষা: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। পণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে অর্জিত আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হয়, ফলে বহির্বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা পায় ও বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পায়।
৫. শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণ: পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়লে দেশে নতুন নতুন সহায়ক শিল্প গড়ে ওঠে (যেমন: টেক্সটাইল, স্পিনিং, প্যাকেজিং), যা সার্বিক শিল্পায়নকে এগিয়ে নেয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, স্বনির্ভরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও