পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • চট্টগ্রাম কলেজ • চট্টগ্রাম কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'X' ও 'Y' দুই বন্ধু। তারা সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করছিল। 'Y' বলল 'E' বিভাগে আইনের বাস্তবায়ন করলেও তা প্রণয়ন করে 'P' আইন বিভাগ। অপরদিকে, 'X' বলল, 'E' বিভাগ অন্য দুটি বিভাগ হতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- ক)(1)
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রধানের পদবি?
- খ)(2)
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'P' দেশের গণতন্ত্রায়নে কী ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'E' বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রধানের পদবি হলো 'প্রধান বিচারপতি' (Chief Justice)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন, শাসন ও বিচার বিভাগকে পরস্পরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীন রেখে নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যবস্থাকে বোঝায়। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর 'দ্য স্পিরিট অব লজ' গ্রন্থে এ নীতির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করা, যেখানে কোনো এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'P' বিভাগ হলো আইন বিভাগ (Legislature/Parliament)। দেশের গণতন্ত্রায়নে আইন বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রথমত, আইন বিভাগ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
দ্বিতীয়ত, দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও বাতিল করার দায়িত্ব আইন বিভাগের।
তৃতীয়ত, সংসদীয় গণতন্ত্রে আইনসভা শাসন বিভাগ তথা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাখতে বাধ্য করেন।
এছাড়া, জাতীয় বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আইন বিভাগ জনগণের অর্থের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে আইন বিভাগ গণতন্ত্রায়নে অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'E' বিভাগ হলো শাসন বিভাগ (Executive Branch)। আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রসারের সাথে সাথে আইন ও বিচার বিভাগের তুলনায় শাসন বিভাগের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা: আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ কেবল শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়; নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় শাসন বিভাগের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা এর ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২. অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইন প্রণয়ন: আইনের জটিলতা ও আইনসভার সময়ের স্বল্পতার কারণে আইন প্রণয়নের সাধারণ কাঠামো আইনসভা তৈরি করে এবং বিশদ নিয়মাবলি প্রণয়নের দায়িত্ব শাসন বিভাগকে প্রদান করে, যা শাসন বিভাগের প্রভাব বাড়িয়ে দেয়।
৩. জরুরি অবস্থার মোকাবিলা: যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মহামারির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে শাসন বিভাগের ভূমিকাই প্রধান।
৪. দলীয় ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব: সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই সরকার বা শাসন বিভাগের প্রধান হন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলার কারণে কার্যত আইনসভা শাসন বিভাগের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না, বরং শাসন বিভাগই আইনসভাকে নেতৃত্ব দেয়।
৫. জাতীয় অর্থ ও পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ: বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি ও তা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব শাসন বিভাগের হাতেই থাকে।উপর্যুক্ত কারণগুলোর আলোকেই আধুনিক যুগে সরকারের অন্য দুটি বিভাগের তুলনায় শাসন বিভাগের ক্ষমতা ও প্রাধান্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও