ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬
ইসলাম প্রশ্ন
রাফি সাহেব বাংলাদেশ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ফ্রান্সের একটি কোম্পানি তাকে দশগুণ বেশি বেতনে চাকরি দেয়ার আহ্বান জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে তিনি এ দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। তাঁরই বাল্যবন্ধু কমরু মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। চার সদস্যের সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খান। বাড়তি আয়ের জন্য তিনি দুটি গাভি পালন করেন। গাভির দুধ নিজে পান করেন এবং বাকিটুকু বিক্রি করেন। একদিন গাভির দুধ কম হওয়ায় তার স্ত্রী রানু বেগম দুধের সাথে পানি মিশিয়ে বিক্রি করার পরামর্শ দেন। কমরু মিয়া বলেন আমি এ কাজ করতে পারব না। কারণ আমি যা করি সব-ই আল্লাহ দেখেন।
- ক)(1)
ওয়াদা কী?
- খ)(2)
“আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায় বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব।”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রাফি সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
কমরু মিয়ার চরিত্রে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক নৈতিক জীবন গঠনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ওয়াদা হলো কোনো কাজ করার বা না করার ব্যাপারে অন্যের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার।
- খ)
কিয়ামতের দিন মানুষের ভালো-মন্দ সকল কাজ ওজন করার জন্য আল্লাহ তাআলা একটি নিখুঁত দাঁড়িপাল্লা বা মীযান (ন্যায়ের মানদণ্ড) স্থাপন করবেন। এ আয়াতে বলা হয়েছে, সেদিন কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।
যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাত লাভ করবে, আর যার পাল্লা হালকা হবে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেকে তার কর্মের যথাযথ প্রতিফল পাবে। - গ)
রাফি সাহেবের কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর দেশপ্রেম গুণটি ফুটে উঠেছে।
দশগুণ বেশি বেতনের বিদেশি চাকরির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তিনি দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান এবং এ দেশেই মরতে চান। এটি দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ত্যাগের পরিচয়। ইসলামে দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। দেশের সেবা, দেশের সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে অংশ নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। রাসূল (স) নিজ জন্মভূমি মক্কাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন।
- ঘ)
কমরু মিয়ার চরিত্রে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রকাশ পেয়েছে। দুধ কম হওয়ায় স্ত্রী ভেজাল দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি বলেছেন, "আমি যা করি সব আল্লাহ দেখেন।" এ উপলব্ধিই তাকওয়া।
নৈতিক জীবন গঠনে তাকওয়ার প্রভাব:
১. অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে: আল্লাহ সবকিছু দেখেন, এ বিশ্বাস মানুষকে গোপনেও পাপ ও প্রতারণা থেকে দূরে রাখে।
২. সততা ও আমানতদারি সৃষ্টি করে: তাকওয়াবান ব্যক্তি লেনদেনে সৎ থাকে, ওজনে ও পণ্যে কারচুপি করে না।
৩. ইবাদতে একাগ্রতা আনে: সে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে।
৪. দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দেয়: আল্লাহ মুত্তাকীদের জন্য কঠিন পরিস্থিতিতে পথ খুলে দেন এবং তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রেখেছেন।সুতরাং, তাকওয়া মানুষের চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি, যা কমরু মিয়ার মতো সৎ ও নৈতিক মানুষ তৈরি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও