বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

তারুণ্য দেখিয়াছি আরবের বেদুঈনদের মাঝে। তারুণ্য দেখিয়াছি মহাসমরের সৈনিকের মুখে, কালাপাহাড়ের অসিতে কামাল-করিম-মুসোলিনি-সানাইয়াৎ-লেলিনের শক্তিতে। যৌবন দেখিয়াছি তাহাদের মাঝে-যাহারা বৈমানিকরূপে অনন্ত আকাশের সীমা খুঁজিতে গিয়া প্রাণ হারায়, আবিষ্কারকরূপে নব পৃথিবীর সন্ধানে গিয়া আর ফিরে না।

  1. ক)

    নটরাজ কী?

    (1)
  2. খ)

    "মম একহাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ তুর্য"-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের চেতনা এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার মর্মকথা প্রায় একই" বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নটরাজ হলেন মহাদেব বা শিব, যিনি প্রলয়ঙ্কর তাণ্ডব নৃত্যের অধিপতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চরণটি দ্বারা কবির যুগপৎ কোমল ও কঠোর সত্তার প্রকাশ বোঝানো হয়েছে।

    'বিদ্রোহী' কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম যেমন অন্যায়, অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রমী হয়ে রণশিঙা বাজিয়েছেন, তেমনই তিনি মানবতার জয়গান গেয়ে প্রেমের বাঁশিও বাজিয়েছেন। একদিকে তিনি ধ্বংস ও বিপ্লবের প্রতীক, অন্যদিকে প্রেম, সৌন্দর্য ও সৃষ্টির ধারক। অর্থাৎ তাঁর সত্তায় একই সাথে বিপ্লবী তেজ এবং প্রেমময় স্নিগ্ধতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্ভীক তারুণ্যের অদম্য শক্তি ও দুঃসাহসিক অভিযানের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তার সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার চির-উন্নত ও বিপ্লবী চেতনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে মহাশক্তির আধার, অন্যায় ও শৃঙ্খলভাঙা এক অদম্য সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কালাপাহাড়ের মতো জীর্ণ সংস্কার ধ্বংস করতে চান, চেঙ্গিসের মতো ধ্বংসের তাণ্ডব চালাতে চান এবং জগতকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য পরাক্রমশালী শক্তিরূপ ধারণ করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায় তারুণ্যের শক্তিকে কালাপাহাড়ের অসি, মহাসমরের সৈনিক, বৈপ্লবিক নেতা এবং অজানাকে জয় করার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর অভিযাত্রীদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির মতো উদ্দীপকের এই চরিত্রগুলোও সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অসাধ্য সাধন করতে উদ্যত। তাই অদম্য তেজ, ভয়হীনতা ও বিপ্লবের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তারুণ্যের শক্তি এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার বিদ্রোহের মূল দর্শন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উভয়ের মধ্যে অদম্য শক্তির মিল থাকলেও কবিতার ভাবপরিধি আরও সুদূরপ্রসারী; তবে মূল চেতনা হিসেবে তারা একই স্রোতধারায় প্রবাহিত।

    'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নজরুলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে অন্যায়, অত্যাচার, শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে এক চিরন্তন প্রতিবাদী শক্তি হিসেবে। তিনি কোনো নিয়মনীতি বা অধীনতা মানেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নিপীড়িতের মুখে হাসি ফোটানো এবং সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। উদ্দীপকে তারুণ্য ও যৌবনের স্বরূপ ব্যাখ্যায় বেদুঈন, মহাসমরের সৈনিক, রাজনৈতিক বিপ্লবীদের শক্তি এবং দুর্গম অভিযানে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া নির্ভীক অভিযাত্রীদের কথা বলা হয়েছে।

    উদ্দীপকে আত্মবলিদান, ভয়কে জয় করার দুঃসাহস এবং পুরাতনকে ভেঙে নতুনের সন্ধানের যে উদ্দীপনা রয়েছে, তা নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল চালিকাশক্তি। নজরুলও তাঁর তারুণ্যের শক্তিতে অনন্ত আকাশ চিরে চির-উন্নত শিরে দাঁড়িয়ে থাকেন। যদিও 'বিদ্রোহী' কবিতায় প্রেমের কোমল অনুভূতি ও বিশ্বশান্তির গভীর দার্শনিক দিক রয়েছে, তবুও মূল প্রেরণা হলো বাধাভাঙা অপরাজেয় যৌবনের শক্তি।

    অতএব, উদ্দীপকের তারুণ্যের তেজ ও দুঃসাহস এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার বিদ্রোহ ও নবজাগরণের চেতনা মূলত একই সূত্রে গাঁথা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন