জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আদর্শ ফুলের ৫টি অংশের মধ্যে রঙ্গিন পাপড়ি মানুষকে মুগ্ধ করলেও পরিণত পরাগধানীর হ্যাপ্লয়েড কোষ পরবর্তী বংশে নতুন বৈশিষ্ট্যের আগমন ঘটায়।

  1. ক)

    অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ক্রসিংওভার কেন ঘটে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রঙিন পাপড়ি সমীকরণিক বিভাজনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে- ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হ্যাপ্লয়েড কোষটি কোন প্রক্রিয়ায় জীবে বৈচিত্র্য আনে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষ বিভাজনের অভ্যন্তরীণ বা জিনগত নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার কারণে কোষের যে অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিভাজন ঘটে, তাকে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মায়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ডাংশের পারস্পরিক বিনিময় ঘটে, যাকে ক্রসিংওভার বলে। ক্রসিংওভার ঘটার প্রধান কারণ হলো পিতামাতার ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনসমূহের মধ্যে রিকম্বিনেশন বা নতুন জিনগত বিন্যাস তৈরি করা, যা জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য ও প্রকরণ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ফুলের রঙিন পাপড়ি একটি উদ্ভিদের অঙ্গজ বা দৈহিক অংশ। উদ্ভিদের দৈহিক অঙ্গের গঠন ও বৃদ্ধি সমীকরণিক বা মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

    ১. সমীকরণিক বিভাজনের প্রকৃতি: মাইটোসিস বিভাজনে একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে সমগুণসম্পন্ন ও সমান ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব থাকে।
    ২. পাপড়ির কোষ বৃদ্ধি: ফুলের মুকুল পর্যায় থেকে পূর্ণাঙ্গ পাপড়ি গঠিত হওয়ার জন্য ধারাবাহিক মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে কোষ সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
    ৩. বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা: সমীকরণিক বিভাজনের ফলে অপত্য কোষগুলোতে মাতৃকোষের মতোই সমান সংখ্যক ও সমবৈশিষ্ট্যের জিন বাহিত হয়। ফলে পাপড়ির স্বাভাবিক রঙ, আকার ও সুনির্দিষ্ট গঠন বজায় থাকে।
    অতএব, ফুলের রঙিন পাপড়ি গঠিত ও বিকশিত হওয়া সমীকরণিক বা মাইটোসিস কোষ বিভাজনেরই ফল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হ্যাপ্লয়েড কোষটি হলো পরাগধানীতে উৎপন্ন পুংজননকোষ বা পরাগরেণু, যা মূলত হ্রাসমূলক বা মিওসিস (Meiosis) কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়। মিওসিস প্রক্রিয়াই জীবের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টির মূল ভিত্তি। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. ক্রসিংওভার (Crossing Over): মিওসিস-১ এর প্রফেজ-১ পর্যায়ের প্যাকাইটিন উপ-ধাপে সমসংস্থ (হোমোলোগাস) ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে খণ্ড বিনিময় বা ক্রসিংওভার ঘটে। এর ফলে ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোর রিকম্বিনেশন বা নতুন পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা নতুন বৈশিষ্ট্যের জন্ম দেয়।
    ২. ক্রোমোজোমের স্বাধীন বিন্যাস (Independent Assortment): মেটাফেজ-১ ও অ্যানাফেজ-১ পর্যায়ে মাতৃ ও পিতৃ ক্রোমোজোমগুলো স্বাধীনভাবে দুই মেরুতে বিন্যস্ত হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার জিনের সমন্বয়ে গঠিত বৈচিত্র্যময় হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
    ৩. গ্যামেটের যথেচ্ছ মিলন (Random Fertilization): মিওসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের ফলে গঠিত জাইগোটে নতুন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে।

    এভাবেই মিওসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ পরবর্তী প্রজন্মে জিনগত প্রকরণ ঘটিয়ে জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের আগমন ঘটায় এবং জৈব বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন